সহিংস উগ্রবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ বড় চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের সভা
সভায় উপস্থিত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংস্থাটি।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কো-অপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক এক সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সহিংস উগ্রবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে এতে অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। সভায় অংশ নেন ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধারণা অনেক বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। জটিল এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অপরাধ, ডিপফেক, ভুল তথ্য ও অপতথ্য বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সংগঠিত অপরাধের একটি বড় অংশের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। অপরাধ তদন্তে একাধিক বিচার ব্যবস্থা, বিদেশি নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন এবং জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী কূটনীতিক অংশীদারিত্ব এখন আর বিকল্প নয়; এটি অপরিহার্য। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে এক বিস্তৃত কাঠামো গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ পুলিশে। পুলিশ সদরদপ্তরের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি ও ইউএন অপারেশন শাখা, ডিএমপি, এসবি, সিআইডি, পিবিআই ও এটিইউর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সভায় কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। সাইবার ক্রাইম, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে কাজ করছে পুলিশ।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর। সব দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে এ আয়োজন। এটি একটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে।
- বিষয় :
- পুলিশ
