ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাড়ছে ডালের দর

চালের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কমছে না দাম

চালের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কমছে না দাম
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভরা মৌসুম ও পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও চড়ে আছে চালের বাজার। এক মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। ডালের দরও কিছুটা বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের ডাল কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। তবে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। এ ছাড়া সবজির বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চালকল মালিকরা দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। মিলারদের দাবি, ধানের সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম বাড়তি। ডালের দর পাইকার ও ডিলার পর্যায়ে বাড়ার ফলে খুচরা বাজারেও বেড়েছে বলে জানান ছোট ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরু চালের মধ্যে মিনিকেটের কেজি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা ও নাজিরশাইলের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগে এই দুই জাতের চাল কেনা যেত ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। মাঝারি চাল (পাইজাম ও লতা) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬৬ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) দাম। ১৫ দিন আগেও এসব চালের কেজি কেনা গেছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। দাম বেড়ে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সরু চালের দর ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, মাঝারি চালের ২ দশমিক ৫ ও মোটা চালের দর ২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।  

দাম বাড়লে বাজারে চালের সরবরাহে সংকট দেখা যায়নি। সরকারি মজুত পরিস্থিতিও ভালো। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এখন সরকারের কাছে চাল ও ধান মিলে মজুত রয়েছে সাড়ে ১৯ লাখ টনের মতো। 
কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন সমকালকে বলেন, ধান সংকটের অজুহাতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়েছেন। মাসখানেক আগে বোরো ধান উঠেছে। সেই ধান এত তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ধান মজুত করার কারণে চালের দাম বাড়ছে।
যদিও চালকল মালিকদের দাবি, ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি শহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, পাইকারিতে কেজিতে সর্বোচ্চ দুই টাকা বেড়েছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। ইরি-বোরো মৌসুমে প্রান্তিক চাষির কাছে যে মজুত ধান ছিল, তা প্রায় শেষ। এখন করপোরেটদের কাছে ধান সংরক্ষিত আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে ধান ছাড়ছেন।
চালের সঙ্গে ডালের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বড় দানার মসুর ডালের কেজি ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা এবং ছোট দানার ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। ১৫ দিনের ব্যবধানে এসব ডাল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। একই সময় কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকায়। বুটের ডালের কেজিতেও ১০ টাকার মতো বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে।
 

আরও পড়ুন

×