ইরান থেকে ফিরে যমজ ভাইয়ের সিসা কারবার
যমজ ভাইসহ গ্রেপ্তার অনলাইন মাদক চক্রের তিন হোতা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত বৃহস্পতিবারের এ অভিযানে সিসা সেবনে ব্যবহৃত ৪১টি হুক্কাসহ বিপুল সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসি বলছে, দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে আর কখনও এত পরিমাণ সিসা উদ্ধার হয়নি। এই কারবারে জড়িত যমজ ভাইসহ অনলাইন মাদক চক্রের তিন হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের কাছে খবর ছিল যে, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই সহোদরের নেতৃত্বে একটি চক্র ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অবৈধ সিসা ও সেবনের উপকরণ বিক্রি করছে। ওই পেজের মাধ্যমে অর্ডার করা সিসার দুটি চালান কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ফেসবুক পেজের নামে পাঠানো ১ কেজি সিসার একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। এরপর মালিবাগ থেকে জব্দ করা হয় সমপরিমাণ সিসার আরেকটি পার্সেল। পার্সেল দুটির প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করে সেদিনই গুলশানের কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয় অভিযানকারী দল। সেখান থেকে মূল অভিযুক্ত আহমেদ ও মেহদাদকে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, আটক দুই ভাইয়ের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, সিসার একটি বড় অংশ তারা পেতেন মাকসুদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে। তিনি ভাটারার নূরেরচালা এলাকায় থাকেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতেই নূরেরচালার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা পাওয়া যায়।
ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কারবার
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আহমেদ ও মেহদাদ দীর্ঘ সময় ইরানে ছিলেন। তাদের মা-বাবা সে দেশের নাগরিক। তারা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। এখানেই এই দুই ভাইয়ের জন্ম হয়। তবে ইরানে তাদের যাতায়াত ছিল। সেখান থেকে তারা সিসা কারবারের কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন। পরে দেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তারা একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যা দেশে অনলাইনে সিসা বিক্রি করা প্রথম দিকের পেজগুলোর অন্যতম। এই পেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার নেওয়া, মূল্য নির্ধারণ এবং ডেলিভারির সমন্বয় করা হতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠানো হতো। তারা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করত।
বিপুলসংখ্যক ক্রেতার তথ্য
ডিএনসির ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সিসার চালান সংগ্রহ করে এই চক্র। এগুলো কখনও কুরিয়ার সার্ভিস, আবার কখনও যাত্রীর লাগেজে লুকিয়ে দেশে আনা হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ের ক্রেতা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন সিসা লাউঞ্জে তারা সরবরাহ করত।
- বিষয় :
- ইরান
