ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা

ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা
×

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৭ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৩

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরতে চান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে এসব কথা বলেছেন।

টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার রাতে। রয়টার্স এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শুক্রবার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আদালতে নিজেদের সমর্পণ করার মাধ্যমে তাঁরা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা নিতে চান।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ কয়েক দফায় ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে। 

ভারতে নির্বাসিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। এ সময়সূচির ব্যাপারে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি জানিয়ে বলেন, ‘তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। রয়টার্স দলটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে সাড়া পায়নি।

আরও পড়ুন

×