ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৩ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৪

তের বছর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

এদিন গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাংবাদিক মোজাম্মল বাবু। অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রূপাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করা হবে।

তিনি বলেন, এ মামলায় ১১ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। আর পলাতক আছেন ৩০ জন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই পরোয়ানামূলে তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব কার্যক্রমের পরই বিচারকার্য শুরু হবে।

শাপলা চত্বরের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিচারকার্যে সব মামলাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তবে শাপলা চত্বর গণহত্যার মামলাটি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করব।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাটিকে আওয়ামী লীগ বলেছিল রং মেখে অভিনয় করেছে। অথচ ৬১ জন আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে তারা। এ বিচার নিয়ে নানাভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষদের আকাঙ্ক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের এ হত্যা মামলাটির যেন বিচার হয়। মানুষের গণদাবিও রয়েছে। আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হবে।

আরও পড়ুন

×