উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেশি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বের বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশ গত বছর শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে বেশি। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তথ্যগুলো।
জাতিসংঘের সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১১৩টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র শিক্ষার চেয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে বেশি। সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে ৩ দশমিক ৬ গুণ বেশি ব্যয় করেছে।
এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউনেস্কো। সংস্থাটির মতে, পরিস্থিতির অবনমনে ভূমিকা রাখবে তহবিল কর্তনের বিষয়টি। নিম্ন ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো এরই মধ্যে তাদের শিক্ষা-সংক্রান্ত সহায়তার ২১ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছে। ২০২৭ সাল নাগাদ তারা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। আফগানিস্তান, মালি, নাইজার ও লিবিয়ার মতো কিছু দেশ গত তিন বছরে শিক্ষা-সংক্রান্ত তহবিল হারিয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি।
ইউনেস্কোর শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মিন জিওঙ কিম বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা দেশগুলোকে কৃচ্ছ্রসাধন, স্বল্প বিনিয়োগ ও স্থবির উন্নয়নের চক্রে আটকে ফেলেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণ জর্জরিত ১৮টি দেশ শিক্ষার ব্যয়ের পাঁচগুণ খরচ করেছে ঋণ পরিশোধে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এটি ছিল ১৬ গুণ।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ডেবট জাস্টিসের তথ্যানুসারে, দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। ৫৬টি দেশ নিজেদের মোট আয়ের এক পঞ্চমাংশ খরচ করেছে ঋণের পেছনে।
সংস্থাটির নীতিবিষয়ক পরিচালক টিম জোনস বলেন, ‘কভিড, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হার বৃদ্ধি ও জলবায়ু বিপর্যয়ের মতো ধারাবাহিক ধাক্কাগুলোর কারণে দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। সবচেয়ে তীব্রভাবে প্রভাব পড়া দেশগুলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো প্রয়োজনীয় খাতগুলোর বাজেট কমাচ্ছে।’
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে তহবিল দেওয়া কমানো পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। ২০২৪ সালে শিক্ষা খাতে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ কমিয়েছে তারা। সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে এটি আরও কমেছে।
একদিকে সহায়তা কমে যাওয়া, অন্যদিকে সরকার খরচ কমিয়ে দেওয়ার কারণে শিক্ষা খাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক স্কুল পর্যাপ্ত তহবিল পাচ্ছে না। অনেক স্থানে শিক্ষকদের বেতন হচ্ছে না।
দীর্ঘমেয়াদে এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলতে পারে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটি হলে দেশগুলো অর্থনীতিকে ঠিক তো করতে পারবেই না; বরং ভবিষ্যতে আরও ঋণের কবলে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- শিক্ষা