ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের শুরুতেই রেকর্ড ছোঁয়া বৃষ্টি, পেছনে কী কারণ

জুলাইয়ের শুরুতেই রেকর্ড ছোঁয়া বৃষ্টি, পেছনে কী কারণ
×

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ছবি-মামুনুর রশীদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪১

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশের বেশির ভাগ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে গড়ে ৩৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা জুলাই মাসের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিক সক্রিয়তা, বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তিত গতিপথ এবং এল নিনোর বিপরীতমুখী প্রভাব মিলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দেশে জুলাই মাসে গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু মাসের প্রথম ১১ দিনেই তার প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃষ্টি হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

তিনি জানান, জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছিল। মাসের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে শুরু করে। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম বিভাগে।

আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, এ বছর মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক সপ্তাহ দেরিতে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও জুলাইয়ের শুরুতেই তা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিম্নচাপের সঙ্গে এই সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, এবার নিম্নচাপের গতিপথও ছিল কিছুটা ভিন্ন। সাধারণত উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ খুলনা ও বরিশাল হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে। কিন্তু এবার জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের দিকে বেশি প্রবাহিত হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান বৃষ্টিপাতের আরেকটি কারণ এল নিনোর বিপরীতমুখী প্রভাব। সাধারণভাবে এল নিনোর সময় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়লেও এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, কিছু অঞ্চলে স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক এবং ‘আবহাওয়া ডটকম’ ও ‘আবহাওয়াবিদ’ অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পসমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই আর্দ্র বায়ু চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, ভারতের ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের রাখাইন পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ওরোগ্রাফিক প্রভাবে একই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে। এ কারণেই চট্টগ্রাম বিভাগ ও পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় বেশি।

আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে মৌসুমি বায়ু আবার সক্রিয় হলে সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ফের বাড়তে পারে।
 

আরও পড়ুন

×