শিশু হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইল ও কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের সখিপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুম করার অপরাধে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই আইনের অন্য একটি ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকার জরিমানা করেছেন।
গতকাল বুধবার এই সাজা ঘোষণা করেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আ ন ম ইলিয়াস। দণ্ডপ্রাপ্ত সাব্বির হোসেন সখিপুর উপজেলার দড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। ভুক্তভোগী সামিয়া আক্তার দড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি ওমরাও খান দিপু জানান, সামিয়া আক্তার বিদ্যালয়ের পাশেই শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যেত। ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হন।
নিখোঁজের পরদিন সামিয়ার মায়ের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কাউকে জানালে মেয়েকে কেটে টুকরা টুকরা করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে সখিপুর থানায় অভিযোগ দেন মেয়েটির মা। নিখোঁজের দুই দিন পর ৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে শিশু সামিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ২৮ অক্টোবর সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় আসামি সাব্বির। ২০২৪ সালের ১২ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গতকাল রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিল্লাল হোসেন নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এই রায় দেন জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামি বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা দোকানি আক্কাস মিয়ার ছেলে মো. ইয়াসিন (৯) নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় পরদিন আক্কাস মিয়া বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন। এর চার দিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে শিশু ইয়াসিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৬ অক্টোবর বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
কুমিল্লা আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, আসামি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
- বিষয় :
- মৃত্যুদণ্ড