টুখেলকে ধুয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৬
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারল না ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে আরও একবার শেষ চারে থেমে গেল থ্রি লায়ন্সরা। এই পরাজয়ে কোচ থমাস টুখেলকে ধুয়ে দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার ও জো হার্ট। তাদের মতে, ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়াই ডুবিয়েছে ইংল্যান্ডকে।
ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় ওয়েইন রুনি বলেন, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় তুলে রক্ষণাত্মক ফুটবলার নামানোর সিদ্ধান্তই ছিল টুখেলের সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মাঠের একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হন এবং দল ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজারের পরিবর্তনগুলো দেখেন, তবে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। কতবার আর এভাবে পার পাওয়া যায়? তখন আপনি ভাবতে শুরু করবেন, ‘ওহ না, আমরা কি এতক্ষণ রক্ষণভাগে সময় পার করব? এভাবে আমরা ম্যাচটা শেষ করব কীভাবে?’’
সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টের মতে, টুখেলের কৌশলে যেন আবারও গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক ফুটবলের ছায়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় গ্যারেথ সাউথগেট বাড়িতে বসে এই খেলা দেখছেন। ইংল্যান্ড যখন বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকত এবং রক্ষণাত্মক কৌশল নিত, তখন তাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। আমার মনে হয় না এই বড় মুহূর্তে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়েছে।’
টুখেলের ম্যাচ পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হার্ট। তিনি বলেন, ‘থমাস টুখেলকে আমরা যতটা প্রশংসা করেছি, কিন্তু তিনি যেভাবে দ্রুত পরিবর্তনগুলো এনেছেন, তাতে আমার মনে হয় তিনি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে নিজের দলের ওপর তার বিশ্বাস ছিল না। তিনি মনে করেননি যে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারবে।’
ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারও মনে করেন, টুখেলের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। শিয়েরার বলেন, ‘আমি ধারাভাষ্যের সময়ই বলেছিলাম, মাঠে তাদের ছয়জন ডিফেন্ডার ছিল। তিনি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। নরওয়ে এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে এভাবে ম্যাচ ধরে রাখা সম্ভব হলেও, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তা কাজ করেনি। আর্জেন্টিনার বল পায়ে রাখার দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি, সেই সঙ্গে তাদের মানসিকতাও অন্য পর্যায়ের।’
শেষে তিনি যোগ করেন, ‘তিনি ম্যাচ জিততে খুব দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। আশা ছিল এভাবে রক্ষণ সামলে ম্যাচ বের করে নেবেন, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে আমরা তার প্রশংসা করেছিলাম, আর এখন আমরা তার উল্টো পথে হাঁটছি। তিনি কি আক্রমণভাগে গতি বাড়াতে পারতেন না? আর্জেন্টিনা প্রথম গোলটি পাওয়ার পর মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে একদম ভেঙে পড়েছিল।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত সেই রক্ষণাত্মক পরিকল্পনাই ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের পর তাই সবচেয়ে বড় সমালোচনার তীর এখন টুখেলের দিকেই।
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- ইংল্যান্ড
- আর্জেন্টিনা