জুলাইয়ে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ
মামলার অগ্রগতির কোনো কিছুই জানে না পরিবার
ওয়াসিম আকরাম
কক্সবাজার ও পেকুয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেলে নগরীর মুরাদপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষে শহীদ হন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম হত্যার দুই বছর পরও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনো কিছুই জানে না পরিবার।
গতকাল বুধবার ওয়াসিম আকরামের বাড়িতে গেলে তাঁর বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘আমি যখন বিদেশে ছিলাম, তখন ওয়াসিমের মা চট্টগ্রামে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় কারা কারা আসামি হয়েছে, সেসব মনে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে কী অবস্থায়, কোথায় আছে কিছুই জানি না।’
ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম বলেন, ‘যখন ঈদের পাঞ্জাবি পরে বাড়ির পাশের ছেলেরা নামাজে যায়, তখন আমি চোখের পানি থামাতে পারি না।’
মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাঘগুজারা বাজারপাড়ায়। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষে পড়তেন। চট্টগ্রাম কলেজ ও পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ওয়াসিম পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়।
ওয়াসিমকে হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ওয়াসিম আকরামের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও সাবেক এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ওয়াসিম আকরাম পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছিলেন। তখন ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন চলাকালে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে সারাদেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অস্ত্রশস্ত্রসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ওইদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টায় মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, কিরিচ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সমাবেশে আক্রমণ করা হয়। একপর্যায়ে ওয়াসিম বুকে ও নাভিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
- বিষয় :
- জুলাই গণহত্যা
- চট্টগ্রাম
- ছাত্রদল
- জুলাই শহীদ