টানা বৃষ্টিতে কাঁঠাল ব্যবসায় ধস
বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশন বাজারে পড়ে আছে অবিক্রীত কাঁঠাল সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার জনজীবন। ঘর থেকে মানুষ বের হতে না পারায় হাটবাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কাঁঠালের বাজারে। বিক্রি না হওয়ায় বাজারে পড়ে থাকা হাজারো কাঁঠাল পচে নষ্ট হচ্ছে, লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
উল্লাপাড়ায় প্রায় ৫০টি হাটবাজার রয়েছে। এর মধ্যে লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে বাজার কাঁঠালের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। এখান থেকে কাঁঠাল পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ঈশ্বরদী, বেড়া, সুজানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে এ বাজারে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের আড়তদার শাহ আলম, রফিকুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন জানান, কয়েক হাজার কাঁঠাল চার-পাঁচ দিন ধরে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। ক্রেতা না থাকায় কাঁঠাল পচে যাচ্ছে। এমনিতেই কাঁঠালের দাম কম, তার ওপর বৃষ্টির কারণে ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশে কাঁঠাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বলে জানান তারা।
খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, কয়েক দিন ধরে পড়ে থেকে তাঁর প্রায় ২০০টি কাঁঠাল পচে গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁঠাল কিনে ভ্যানযোগে বাজারে আনলেও এখন মূলধনই হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছেন বড়হর বাজারের তারিকুল ইসলাম, বন্যাকান্দি বাজারের মহির উদ্দিন, দমদমা বাজারের এরশাদ আলীসহ অন্য ব্যবসায়ীরাও।
কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় ১১০ হেক্টর জমি থেকে গড়ে ১ হাজার ২০০ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তিনি আরও জানান, সরকার কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কাঁঠাল সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা–সবাই উপকৃত হবেন।
- বিষয় :
- বৃষ্টি