প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) ও কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩১
হালুয়াঘাট উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের ধারালো দায়ের কোপে বাবা নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।
নিহত মজিবুর রহমান হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের খন্দকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ফারুক আহমেদকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার সকালে মজিবুর রহমান নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর ছেলে ফারুক আহমেদ হঠাৎ ধারালো দা দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মারা যান তিনি। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ফারুক আহমেদ দীর্ঘদিন মানসিক রোগে ভুগছিলেন।
হালুয়াঘাট থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, অভিযুক্ত ফারুক আহমেদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নিখোঁজের এক দিন পর নিজ বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্র জুনাঈদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। জুনাঈদ নওপাড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের দিলুয়ার হোসেন ওরফে দিলু মুন্সীর ছেলে। সে নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় জুনাঈদ। নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না। অবশেষে বুধবার সকালে বাড়ির সামনের পুকুরের পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করলে শনাক্ত করেন জুনাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
উদ্ধারের সময় তার নাক, মুখসহ বিভিন্ন স্থান ফোলা ছিল। জুনাঈদের বাবা দিলুয়ার হোসেনের অভিযোগ, প্রতিবেশী দয়াল মিয়ার সঙ্গে জমি নিয়ে কয়েক দিন আগে ঝগড়া হয়। এই শত্রুতার জের ধরেই দয়াল মিয়া ও তাঁর লোকজন তাঁর ছেলেকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে রেখেছেন।
এ বিষয়ে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহান কাউসার জানান, স্কুলছাত্র জুনাঈদ নিখোঁজের পর থেকে দয়াল মিয়া পলাতক।
কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলামের ভাষ্য, খবর পেয়ে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাক-মুখসহ বিভিন্ন স্থান ফোলা ছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ বেরিয়ে আসবে।
- বিষয় :
- হত্যা