ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় শনাক্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন ব্যয় ১৪ হাজার কোটি টাকা

প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় শনাক্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
×

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২২ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ ও সরকারি বিনিয়োগ আরও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় শনাক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। 

গতকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

বৈঠকে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ তিন হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি। বাকি ৫টি সংশোধিত প্রকল্প। 

একনেক বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহি জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আর দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। 

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কেন ব্যয় বেড়েছে– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন, ভ্যাট ও করের হিসাবের পরিবর্তন, মূল ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকা ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন পাঁচটি উপাদান সংযোজনের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার রূপসা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে। কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।

অনুমোদিত প্রকল্প
অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলো হলো, স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (১ম সংশোধন) প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধিত প্রকল্প), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ (৩য় সংশোধন) প্রকল্প ও মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধন) অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগেই অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী নিজস্ব এখতিয়ারে এ ধরনের ছোট প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারেন। 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু। তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর বাসসের।

বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

২০২৩ সালের ২৪ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

আরও পড়ুন

×