ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গবেষণা

চারশ বছর বাঁচে যে হাঙর

চারশ বছর বাঁচে যে হাঙর
×

গ্রিনল্যান্ডের হাঙরের আয়ু ৩০০-৫০০ বছর হতে পারে সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রিনল্যান্ডের কিছু হাঙর বেঁচে থাকে চারশ বছর পর্যন্ত। মানে বর্তমানে ওই অঞ্চলে এমনও হাঙর রয়েছে, যা শেকসপিয়রের আমল থেকে বেঁচে রয়েছে। না সেগুলোর হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়েছে, না সেগুলোর চোখের জ্যোতি কমেছে। গভীর পানিতে বসবাসকারী এই হাঙরগুলোর অন্য প্রাণীর মতো বয়সজনিত সমস্যা দেখা দেয় না বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। বলে রাখা ভালো, সাধারণ হাঙরের গড় আয়ু ২০ থেকে ৩০ বছর। 

গ্রিনল্যান্ড হাঙর মূলত উত্তর আটলান্টিক ও গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও আইসল্যান্ডের কাছের মেরু অঞ্চলের পানিতে দেখা যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে এ রকমই এক হাঙরের মরদেহের খোঁজ পান কয়েকজন গবেষক। তারা সেটিকে নিয়ে আসেন নিজেদের গবেষণাগারে। চেষ্টা করছেন প্রকৃতির এ রহস্যের সুরাহা করতে। গবেষণা করতে গিয়ে চমকপ্রদ কিছু তথ্য পেয়েছেন তারা। 

যে হাঙরটির মরদেহ গবেষকরা পেয়েছিলেন, সেটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ ফুট। তারা অনুমান করেন, এই প্রাণীটি নিজ প্রজাতির তুলনায় সময়ের আগে মারা গেছে, এর বয়স হবে আনুমানিক ১৫০ বছর। অর্থাৎ মাছটি রানী ভিক্টোরিয়া ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের আমলে জন্ম নিয়েছিল। এটি যখন শিশু ছিল, তখনও সাগরে চলাচল করত, তিন মাস্তুলবিশিষ্ট পালতোলা জাহাজ এবং গাড়ি তখনও উদ্ভাবিত হয়নি।   

মৃত হাঙরটি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইরিশ হোয়েল অ্যান্ড ডলফিন গ্রুপের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী এমিলিয়ে ডে লুস বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখের কথা। এই প্রাণীটির ১৫০ বছর সময় লেগেছে এমন একটি পর্যায় পর্যন্ত আসতে, যখন সে প্রজনন ঘটাতে পারবে, নিজ প্রজাতির জনসংখ্যার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে। কিন্তু হয়তো সেটি সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।’

মজার ব্যাপার হলো, গ্রিনল্যান্ড হাঙরের আয়ু যে চারশ বছর, সে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারও কারও মতে, এটি আরও বেশি। কেউই এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট উত্তর বের করতে পারেননি। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ৩০০-৫০০ বছর হতে পারে এই হাঙরের আয়ু। 

ডে লুস বলেন, ‘আমরা সবাই খুব অবাক হয়েছিলাম। একটি প্রাণী এত বছর বাঁচতে পারে এবং সেটি কী কী দেখেছে– সে বিষয়টি চিন্তা করাটাই আমাদের জন্য অসাধারণ ছিল।’ প্রাণীটির মরদেহের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বেশকিছু তথ্য পান গবেষকরা। আয়ারল্যান্ডের পিএইচডি গবেষক জেসমিন স্ট্যাভেনাও জেরেমাম বলেন, ‘মৃত প্রাণী আপনাকে জীবিতদের বিষয়ে অনেক কিছু বলতে পারে।’

গবেষকরা জানতে পারেন, তীব্র শীতে টিকে থাকতে এদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে। প্রাণীটির দেহ উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক ধরে রাখে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের মাংস বিষাক্ত হয়ে গেছে, কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতি তাদের টিকতে আর বাধা নেই। 

আরও জানা যায়, গ্রিনল্যান্ডের হাঙররা ধীরগতিতে সাঁতার কাটে, সমুদ্র তলদেশের আবর্জনা খেয়ে ফেলে এবং এটি শিকারি প্রাণীও। অন্যতম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এদের চোখ। এই হাঙরগুলোর চোখ অনেকটা ‘লো লাইট ক্যামেরা’র মতো। খুব স্বল্প আলোতে দেখতে পায়। এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলেন, চোখের বিষয়টি পুরোপুরি মানানসই। কারণ হাঙরটি আর্কটিক সাগরের গভীরে ঠান্ডায় বসবাস করে। 

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষকরা বিশ্বাস করে এসেছেন, এই মাছগুলোর চোখের জ্যোতি কম বা এগুলো হয়তো অন্ধ। তবে গবেষণায় বিষয়টি ভুল প্রমাণিত হয়। জানা যায়, ঘটনা পুরো উল্টো। গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দৃষ্টিশক্তি শত শত বছর ধরে ঠিক থাকে। মানুষের চোখের মতো বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটির মান খারাপ হয় না। এই হাঙরের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করতে সক্ষম। ঠিক একই কারণে এর হৃৎপিণ্ড শত শত বছর পার হয়ে গেলেও ভালো থাকে। গবেষকরা এর হৃৎপিণ্ডে বয়সের ছাপ পেয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ থাকা সত্ত্বেও এর অবস্থা ছিল তুলনামূলক বেশ ভালো। 

গবেষকরা বলছেন, হাঙরটির পাকস্থলী ও পুরো পরিপাক যন্ত্র ভালোভাবেই আলাদা করতে পেরেছেন তারা। পাকস্থলী খাবারশূন্য অবস্থায় পেয়েছেন তারা। গবেষকরা ধারণা করছেন, এ ধরনের হাঙরের খাবার অত্যন্ত কম লাগে। কারণ, সে পরিমাণ শক্তি ক্ষয়ের দরকার পড়ে না এদের। তবে গবেষকরা এটিও বলছেন, এখনও বহু কিছুই তারা জানেন না। নতুন আরও রহস্যের পর্দা ওঠা এখনও বাকি। সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×