হৃদরোগ চিকিৎসা উপকরণের অবৈধ ব্যবসা
তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৪
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অবৈধভাবে আমদানি করা স্টেন্ট (হার্টের রিং) ও অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের ব্যবহার বন্ধে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আনা এসব উপকরণ জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন হাসপাতাল নিজস্বভাবে তদন্ত শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার সমকালে ‘হার্টের রিংয়ের অবৈধ ব্যবসায় নার্স ও চিকিৎসক’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অবৈধভাবে আমদানি করা হৃদরোগ চিকিৎসা উপকরণ ব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য এবং চিকিৎসকদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর স্বাস্থ্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে বিষয়টি। এরপরই বিভিন্ন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক শুরু করে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন সমকালকে বলেন, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কিছু চিকিৎসক হার্টের রিং নিয়ে ভয়াবহ বাণিজ্য করছেন। সমকালের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ বিষয়ে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে হৃদরোগ বিভাগের প্রধানসহ কয়েকজন চিকিৎসকের নাম আসায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, কিছু অসাধু চিকিৎসক ও নার্স পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন, যাতে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে স্টেন্ট কিনতে না পারেন। বাজারে এসব পণ্য সহজলভ্য না হওয়ায় রোগীদের নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকেই কিনতে বাধ্য করা হয়। ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কিছু চিকিৎসকের যোগসাজশ থাকায় রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়।
চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, সমকালের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। কেন হাসপাতালের নাম এসেছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, প্রতিবেদনটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে নিয়ম মেনেই স্টেন্ট বসানো হয় বলে তাদের ধারণা। তারপরও প্রতিবেদনে হাসপাতালের নাম আসায় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হবে।
এভারকেয়ার হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাসপাতালের নাম ও কয়েকজন চিকিৎসকের নাম আসায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আকতার হোসেন বলেন, নিবন্ধনহীন কোনো প্রতিষ্ঠান হৃদরোগ চিকিৎসা উপকরণ বাজারজাত বা সরবরাহ করতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে আনা কোনো উপকরণ যেন রোগীদের শরীরে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- হার্টের রিং
- ব্যবসা
- তদন্ত