স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশে ১০ হাজারের বেশি ল্যাব, আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি মাত্র কয়েকটি
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২৩
দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) রয়েছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি। এতে দেশের ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষার ফলের ওপর বিদেশে চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আস্থা দেখান না চিকিৎসকেরা। ফলে রোগীদের একই পরীক্ষা বিদেশে গিয়ে আবার করাতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় ও সময় দুটিই বাড়ে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশে আন্তর্জাতিকমানের সনদপ্রাপ্ত (অ্যাক্রেডিটেড) ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
আজ রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। কিন্তু দেশের অনেক ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফল আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় বিদেশে গিয়ে একই পরীক্ষা পুনরায় করতে হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা বিদেশে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেশে নির্ভরযোগ্যভাবে করাতে পারবেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ল্যাবরেটরিগুলোর ওপর কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবর্তে তাদের সচেতন করা বেশি জরুরি। ল্যাবের মালিক ও পরিচালকেরা যদি বুঝতে পারেন যে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করলে মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়িকভাবেও লাভবান হবেন, তাহলে তারা নিজেরাই অ্যাক্রেডিটেশন নিতে আগ্রহী হবেন।
স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিতে হবে। অন্যথায় ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে না।
সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী