বেহাল নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক, বন্ধ বাস-মিনিবাস সার্ভিস
দুর্ভোগে দেড় লাখ বাসিন্দা
ছবি- সমকাল
নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪০
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি-মোল্লারহাট সড়কের বেহাল দশার কারণে জেলা সদরের সঙ্গে প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে মিনিবাস চলাচল সার্ভিস। এ ছাড়া বরিশাল মালিক সমিতির বাস সার্ভিসও মোল্লারহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর ধরে বন্ধ। মিনিবাস ও বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় এ উপজেলার দেড় লাখের বেশি বাসিন্দার প্রতিনিয়ত টেম্পো, অটোরিকশা ও টমটমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াত করতে হয়। ভাঙা সড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, নলছিটি ফেরিঘাট থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সুগন্ধা নদীতে ফেরি চলাচল অনিয়মিত হওয়ায় নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার অথবা নৌকা। বর্ষা মৌসুমে নদীর উত্তাল ঢেউ এবং বৃষ্টিতে ভিজে উপজেলা সদরে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও উপজেলা সদরে আসা মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি সইতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহর ঝালকাঠির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ১৯৯৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ঝালকাঠি-নলছিটি-মোল্লারহাট সড়কটি পাকা করে। পরে সুগন্ধা নদীর নলছিটি-ষাইটপাকিয়া পয়েন্টে একটি ফেরি সার্ভিসও চালু হয়। তখন থেকেই শুরু হয় যাত্রীবাহী বাস চলাচল। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিনামূল্যে ফেরি পার হয়ে যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে সড়কটি খানাখন্দের কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০০৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় ঝালকাঠি-নলছিটি রুটে সরাসরি বাস চলাচল। সেই থেকে সার্বক্ষণিক ফেরি চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের গাড়ি এলে ফেরি ছাড়া হয়। আর ফেরিতে গাড়ি ব্যক্তিগত পার করতে হলে বাড়তি অর্থ খরচ করে রিজার্ভ করতে হয়।
নলছিটি শহরের ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যখন নিয়মিত ফেরি চলাচল করত তখন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা নলছিটি থেকে ঝালকাঠি যেতে পারতাম। এখন ট্রলারে ১৮ জন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। না হলে ট্রলার ছাড়ে না। কখনও বাড়ি ফিরতে রাত হলে অধিক ভাড়া দিয়ে ট্রলার রিজার্ভ করতে হয়। সরকারি ফেরি ও সড়ক থাকা সত্ত্বেও অব্যবস্থাপনার কারণে উপজেলাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামের আল আমীন ফকির বলেন, নদী পার হলেই নলছিটি শহর। তাই আমাদের আশপাশের গ্রামের মানুষ নলছিটিমুখী। বাজারও করতে হয় নলছিটি গিয়ে। রাস্তায় বাস না থাকায় এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল না করায় নদীর উভয় পাড়ের লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তালতলা বাজার এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম তালুকদার, লিটন মোল্লা, রিয়াজ হোসেন বলেন, নলছিটি উপজেলার প্রধান সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাবেক এমপি আমির হোসেন আমু প্রতিহিংসামূলক এই রাস্তার উন্নয়ন না করে ফেলে রেখেছিলেন।
শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম, হাছিনা বেগম ও শাহিদা আক্তার বলেন, রাস্তার যে অবস্থা; এ দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। নারীদের জন্য এ সড়ক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
মোল্লারহাট জুলফিকার আলি ভুট্টো ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার, শান্তা, লামিয়া, রাইশা জেবা, নওশিন তিশা ও মৌসি বলেন, এ রাস্তায় খানাখন্দের কারণে গাড়ি কম চলে এবং ভাড়া অনেক বেশি। আরও প্রশস্ত করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান সমকালকে বলেন, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি-মোল্লারহাট সড়ক হয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার মহেশপুর পর্যন্ত সড়কটি নতুন করে নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন। এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে শিগগিরই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।