ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি সংকটে লংমার্চের গাড়ি কমালো এনসিপি

জ্বালানি সংকটে লংমার্চের গাড়ি কমালো এনসিপি
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৫ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৫

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ ৬ দফা দাবিতে আগামী শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যে লংমার্চ, তাতে হাজারখানেক গাড়ি অংশ নেবে। পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ির পরিকল্পনা থাকলেও, জ্বালানি সংকটে তা কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় এনসিপি। রাজধানীর বাংলামোটর কার্যালয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে লংমার্চের সমন্বয় সভার পর এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

এতে দলটির নেতারা জানান, ঢাকার মতিঝিলের শাপলাচত্বরে পথসভা করে সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি পৌঁছাবে লংমার্চ। পথে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। 

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, লংমার্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ বাধা দিলে যা পদক্ষেপ নেওয়ার, তা জনগণই নেবে। জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে তারা লংমার্চ করতে যাচ্ছেন। ছয় মাসে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সারের সরবরাহ ঠিক রাখা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। অতীতের জুলুম-নির্যাতনের বিচার ফলপ্রসূ জায়গায়ও নিতে পারেনি। সরকার জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পৌঁছে গেছে। জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে সংসদে কথা বললেও সরকার সেগুলো গ্রাহ্য করার মানসিকতা দেখায়নি। বিদ্যুতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। 

দলীয়করণে ব্যস্ত সরকার অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, সরকার জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে না পারলেও স্থানীয় সরকারের দলীয় প্রশাসক বসানো, গুম প্রতিরোধ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে দুর্বল আইন করছে। 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ১১ দলের। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লংমার্চের গাড়ি সড়কের একপাশ দিয়ে যাবে, যাতে জনদুর্ভোগ না হয়। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের পথ তৈরি করে দেওয়া হবে। 

জ্বালানি সংকটের সময়ে তেল পুড়িয়ে লংমার্চের সমালোচনা করছেন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা। নাসীরুদ্দীন বলেছেন, গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে এক হাজারে আনা হয়েছে, যাতে জ্বালানি বাঁচে। তা ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এ লংমার্চ নিয়ে বয়ান ছড়ানো হচ্ছে যে এখানে নাকি এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লংমার্চের পুরো রাস্তায় সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ যেন কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে বিরোধীদের ওপর দায় না দিতে পারে, সে বিষয়ে সবার সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিন, এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×