সংসদে প্রধানমন্ত্রী
পুনর্বাসন, পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে ফুলবাড়ীর কয়লার সিদ্ধান্ত
জাতীয় সংসদে গতকাল বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিআইডি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি তা দেশের জন্য ভালো হবে। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে বসতবাড়ি ও কৃষিজমির বিষয় আছে। আগে সেখানকার স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সাবিকুন্নাহার বলেন, সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যুক্তিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদনের আলোচনা করছে। এ পদ্ধতিতে অধিক কয়লা উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিশেষ করে জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ফুলবাড়ী প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের নামে যদি কৃষিজমি ধ্বংস হয়, হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ হয় এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন জনগণের জন্য নয়।
সরকারকে আগে পূর্ণ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা প্রকাশ করতে হবে এবং স্থানীয় জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর সরকারের মনোভাব জানতে চান।
প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমরা রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। খুব স্বাভাবিকভাবে সংসদ সদস্য তাঁর যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অবশ্যই আমরা দেশে যে সমস্যাটি আছে জ্বালানির, এটিকে সে রকম সমাধান করতে চাইছি। আমাদের দেশে ফুলবাড়ীতে যে কয়লার কথা তিনি বলেছেন, সেই কয়লা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো যেসব কয়লা আছে, তার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লা উত্তোলন করে যদি জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যে রকম সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে।
বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিচালনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৪০ এমএসসিএডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমান চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএসসিএডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরও দুটি করে নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সৌরপ্যানেল স্থাপনের অপরিহার্য পণ্যের কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় শিল্প ও সোলার প্যানেল শিল্প গড়ে তোলার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিথেনিয়াম ব্যাটারি যাতে এ দেশে উৎপাদিত হয় সে জন্য কর মওকুফ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ৫০ টাকা করে কিনবে সরকার।
সংসদ নেতা জানান, দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসমূহে গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। সোলার ছাড়াও পানি বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।
নিলোফার চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লিথিনিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়ে বুধবার দুপুরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিথিনিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার যেটি হবে সেটির একটি সার্টিফিকেশন করে দেওয়া হবে। একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করে দেওয়া হবে।
মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করছে।
- বিষয় :
- তারেক রহমান