ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও সংসদে বিতর্ক

স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও সংসদে বিতর্ক
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল পরীক্ষা করে সংসদে আলাদা প্রতিবেদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন বিলে কিছু পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

গুম প্রতিরোধ বিল ও মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে সরকারি এবং বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ বিল তিনটি সংসদে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ বিল ও মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে কমিটিতে আলোচনা বর্জন করেছিল বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা।

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নওশাদ জমির সংসদে কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়, বিলটি পরীক্ষায় সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সেখানে বিরোধী দলের সদস্য নাজিবুর রহমান ও আল ফারুক আব্দুল লতিফের নামও রয়েছে। আরেকটি অংশে বলা হয়, বিলের ওপর আলোচনার শুরুতে বিরোধী দলের দুই সদস্য বক্তব্য না দিয়ে কমিটি কক্ষ ত্যাগ করেন।

কমিটির সভাপতি বিলটি উত্থাপনের প্রস্তাব করলে আপত্তি জানান নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, তারা কেন কমিটির আলোচনায় অংশ নেননি, সেটা বিস্তারিত বলেছিলেন এবং লিখিতভাবে কমিটিকে দিয়েছিলেন। সেটা কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এটা নিয়ে তিনি আপত্তি জানান।
জবাবে কমিটির সভাপতি নওশাদ জমির বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা কমিটির সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু বিস্তারিত আলোচনার আগে তারা কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন।
এক পর্যায়ে নওশাদ জমিরের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্বরাস্ট্রমন্ত্রী  বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে ওয়াক আউটের নজির মনে হয় প্রথম। বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে বক্তব্য দিলে সেটা বিলের প্রতিবেদনে থাকত। তারা সেটা দেননি। জবাবে নাজিবুর রহমান বলেন, তারা লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেটা রিপোর্টে রাখা হয়নি। তাই রিপোর্টটি অসম্পূর্ণ। তিনি তাদের বক্তব্যটি রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এ সময় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিত দিয়েছেন, কমিটিকে পড়ে শুনিয়েছেন। এটা রিপোর্টে থাকা উচিত।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, কমিটিতে সদস্যরা কে কী বলেছেন, সেটা রিপোর্টে উল্লেখ থাকে না। তবে স্পিকার ‘সক্রিয়’ শব্দটা কেটে দিতে পারেন।
জবাবে স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিলটি যখন পাসের আগে দফাওয়ারি আলোচনা হবে তখন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। আলোচনার মাধ্যমে এটি অনুমোদিত হতে পারে। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট সংসদে উত্থাপিত হলো।

এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ সময় আপত্তি জানান এই কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, তারা কেন ওয়াক আউট করেছিলেন, সে বক্তব্য কমিটির বৈঠকে দিয়েছেন। প্রতিবেদনে সক্রিয় শব্দটি কার্যকর নয়।
তখন স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ওয়াক আউট করার বিষয়টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট উপস্থাপিত হলো।
বিলে বলা ছিল, মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হবে। এর মধ্যে একজন নারী হবেন। সংসদীয় কমিটি একজন নারীর পাশাপাশি একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য রাখার সুপারিশ করেছে।
কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বা তাঁর মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

ছিনতাই-চাঁদাবাজি নিয়ে সংসদে উদ্বেগ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে– অভিযোগ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের একাধিক সদস্য। গতকাল সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের সদস্য সালাহউদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সদস্য সাবিকুন্নাহার এসব কথা বলেন।
গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতি বাড়ছে দাবি করে এই সদস্য বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, পথচারীদের জন্য তৈরি ফুটপাত অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে।
সাবিকুন্নাহার বলেন, চাঁদাবাজি যেন আজ সরকারি দলের এক কমিউনিকেবল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চান তিনি।
 

আরও পড়ুন

×