ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জোড়া ব্রিজের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে জমি ভরাট

জোড়া ব্রিজের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে জমি ভরাট
×

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় হাসাইল-কামারখাড়া সড়কের বাইনখাড়ায় পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে জমি ভরাট করা হচ্ছে। গতকাল তোলা সমকাল

 মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে জমি ভরাট করা হচ্ছে। নিচু কৃষিজমি ভরাট করলেও শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন বা প্রশাসনের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার হাসাইল-কামারখাড়া আঞ্চলিক সড়কের বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সেতুর পানি প্রবাহের মুখ সামান্য খোলা রেখে বেশির ভাগ অংশ বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে গেলেও এ-সংক্রান্ত সরকারি বিধান মানা হয়নি।
গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল গেলে স্থানীয়রা জানান, সেতুর নিচ দিয়ে বর্ষাকালে এলাকার পানি প্রবাহিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে সেতু-সংলগ্ন জমিতে বিপুল পরিমাণ ফসল ফলে। সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে ড্রেজার ও বালুর পাইপ বসিয়ে সংলগ্ন ফসলি জমি ভরাট করছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ব্রিজের মুখে পানি প্রবাহ বন্ধ করে এভাবে জমি ভরাট করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পোহাতে হবে। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এমনিতেই উপজেলার কৃষিজমি দিন দিন কমে যাচ্ছে, তার ওপর জোড়া ব্রিজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের মুখ বন্ধ করে যেভাবে বালু ফেলা হচ্ছে, তাতে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমরা বারবার বারণ করলেও তারা কারও কথা শুনছে না।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ করে বাইনখাড়া জোড়া ব্রিজের স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ পুনরুদ্ধার করতে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেতু-সংলগ্ন ফসলি জমি ভরাট করছেন স্থানীয় বড়াইল গ্রামের মৃত মোবারক খানের ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিলির খান রানা। তিনি স্বজনের মাধ্যমে ড্রেজার ব্যবসায়ী রুবেল মিয়াকে জমি ভরাটের দায়িত্ব দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে কথা হয় ড্রেজার পরিচালনার দায়িত্ব থাকা রুবেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি এই জমির মালিক নই। আমার দায়িত্ব শুধু ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা। শুনেছি, স্থানীয় খান পরিবারের লোকজন এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করবে। এ বিষয়ে জানতে ওই পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানীয়া বলেন, পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে ফসলি জমি ভরাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমিও ভরাট করতে হলে শ্রেণি পরিবর্তন করার বিধান রয়েছে। কিন্তু তাঁর দপ্তরে এমন কোনো আবেদন দাখিল করা হয়নি।

আরও পড়ুন

×