ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংস্কারের আশায় আট বছর

সংস্কারের আশায় আট বছর
×

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ত্রিশাল-কানিহারী সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সম্প্রতি তোলা ছবি সমকাল

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রিশাল-কানিহারী সড়কের সংস্কারকাজ হচ্ছে না ৮ বছর ধরে। এই দীর্ঘসময়ে সড়কটি খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। চলাচল ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লোকজন। মাঝেমধ্যেই উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। আহত হচ্ছেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা ত্রিশাল-কানিহারীর ১৩ কিলোমিটার সড়ক ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে নিম্নমানের সংস্কার কাজ হওয়ায় বছর না ঘুরতেই ইট-খোয়া উঠে গর্ত হতে শুরু করে। গত ৮ বছরে শুধু দুই খালের ওপর দুটি সেতু নির্মাণ ও মাঝেমধ্যে ইটের সলিং করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীর্ঘ ৮ বছরে সংস্কারহীন ওই সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।
বেহাল সড়কে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর, কানিহারী ইউনিয়নের বড়মা, সুরুলিয়ার কান্দা, তালতলা, এলংজানি, দেওপাড়া, সেনবাড়ী, বিয়ার্তাসহ ১০-১২টি গ্রামের মানুষ। 

গত ১২ জুলাই সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান সমকালকে জানিয়েছিলেন, এই সড়ক সংস্কারে পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রস্তাব পাস হলে আগামী মাসে টেন্ডার হবে। এরপর এই বিষয়ে জানতে একাধিক দিন সরকারি নম্বরে ফোন করলেও রিসিভ করেননি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. শরীফুল আলম। পরে গত ১৭ আগস্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যলয়ে গিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর দেখা মেলে নির্বাহী প্রকৌশলীর। ওইদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিশাল অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে। দ্রুতই সম্পন্ন হবে টেন্ডার প্রক্রিয়া।

সরেজমিন দেখা যায়, ওই ১৩ কিলোমিটার সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ত্রিশাল পৌরসভার শেষ সীমানা থেকে রামপুর ইউনিয়নের বড়মা মোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারে। ইট-সুরকি উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। হেলেদুলে চলাচল করছে যানবাহন। 
রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের বাসিন্দা আবু ইয়াহিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত শুনে যাচ্ছি এইতো সামনেই এই সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে। এভাবেই সংস্কারের আশায় কেটে গেল আট বছর।’   
স্থানীয় হাবিবুর রহমান লিখন, জালাল উদ্দিন ও ইউসুফ আলী জানান– ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা, পিকআপভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কের গর্তের কারণে উল্টে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আপেল মাহমুদের ভাষ্য, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

কানিহারী ইউনিয়নের এলংজানী গ্রামের ইলিয়াস বেপারি, ইদ্রিস আলী ও রাসেল সরকার জানান, পৌরসভার শেষ সীমানা থেকে রামপুর ইউনিয়নের বড়মা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী। এই এলাকার লোকজনকে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে বালিপাড়া সড়কের গফাকুড়ি হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মুশফিকুর রহমান বলেন, ত্রিশাল-কানিহারী সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এই ইউনিয়নের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ উপজেলা সদরে চলাচল করেন ওই সড়ক দিয়ে। দ্রুত সংস্কার কাজ হলে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবেন এই অঞ্চলের মানুষ।
সড়কে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে গত মঙ্গলবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. শরীফুল আলম সমকালকে জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হতে পারে।

আরও পড়ুন

×