সেতু নির্মাণের দুই মাসেও হয়নি সংযোগ সড়ক
সেতু হলেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। সুপারি গাছের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন এক ব্যক্তি। গতকাল বুধবার বেতাগীর শেরেবাংলা গ্রামে সমকাল
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
সেতু নির্মাণের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সুরক্ষা দেয়াল, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেননি ঠিকাদার। এ কারণে ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া
ইউনিয়নের শেরেবাংলা গ্রামের হাজারো বাসিন্দাকে। সুপারি গাছ বসিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। গতকাল বুধবার সরেজমিন এলাকাবাসীর ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পশ্চিম বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক ঘেঁষে গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। গত জুনে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার এ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়। সেতুর পূর্ব পাশে উত্তর করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলিয়া বাজার, মাদ্রাসা ও কয়েকটি মসজিদ। প্রতিদিন দুটি গ্রামের শত শত বাসিন্দা এখান দিয়ে যাতায়াত করেন।
তারা এ জন্য ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনিয়মের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেনি। সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটির এক প্রান্ত জলমগ্ন। ইতোমধ্যে সেতুটির কয়েক জায়গায় ফাটল ধরছে। পরে তাড়াহুড়া করে সংস্কারের চিহ্নও স্পষ্ট। সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশ ধরে ধরে সুপারি গাছ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় শিক্ষক মো. শানু বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। আমরা সেতুর সঙ্গে বাঁশ ও সুপারি গাছ লাগিয়ে পারাপার করছি। কিন্তু এটি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সেতুর সব কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানাই।’
একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, সেতুটি নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সেতুটিতে উঠানামার পরিপূর্ণ সংযোগ সড়ক নির্মাণের আকুতি জানান তিনি।
জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ জালাল বলেন, ইমামতির জন্য মসজিদে যেতে প্রতি দফায় তাঁকে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। এ বিষয়টি খুবই অমানবিক।
কাজে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মো. প্রিন্স দাবি করেন, বর্ষার কারণে কাজ করাতে পারছেন না। বর্ষা শেষ হলেই সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ সব কাজ শেষ করার আশা করছেন।
বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তারা ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছেন। কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও বর্ষার কারণে তারা কাজ করাতে পারছেন না। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন তিনি।
ইউএনও মুহ. সাদ্দাম হোসেনের ভাষ্য, সেতুটির কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর বিল বন্ধ রাখা হয়েছে। যে সব জায়গায় ফাটল ধরেছে তা নতুনভাবে কাজ করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কসহ বাকি কাজ শেষ করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকমতো কাজ শেষ না হলে বিল দেওয়া হবে না।
- বিষয় :
- সেতু