ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন এডিসি দিয়ে চলছে জেলা প্রশাসন

একজন এডিসি দিয়ে  চলছে জেলা প্রশাসন
×

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা সংকট তৈরি হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকেই একাধিক শাখার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ।

জেলা প্রশাসনের সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ৫ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত ছিলেন ৩ জন। উপসচিব পদে পদোন্নতি হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৩০ আগস্টের এক প্রজ্ঞাপনে এডিএম আব্দুল্লাহ বিন রশীদ ও এডিসি (রাজস্ব) সুমী আক্তারকে অন্যত্র বদলি করা হয়। ফলে এখন জেলা প্রশাসনের পুরো দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী ও এডিসি জেনারেল আফসানা তাসলিমকে। সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও সহকারী কমিশনারের ২২টি পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে রয়েছেন ১২জন। এর মধ্যে ৮জনই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে বেশকিছু দিন ধরেই দাপ্তরিক ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৪জন সহকারী কমিশনার। সূত্রটি জানায়, কর্মকর্তা সংকটের কারণে বর্তমানে এই চার কর্মকর্তাকে একাধিক শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনারদের বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এতে একজন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে ৫ থেকে ৬টি শাখার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার শাহীন কাওছারকে ভূমি অধিগ্রহণ, রাজস্ব, ভিপি সেল, জেনারেল সার্টিফিকেট ও আরএম শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার ইমন হোসেনকে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার শাখা, জুডিশিয়াল মুন্সিখানা, আইসিটি, ফরমস অ্যান্ড স্টেশনারি, লাইব্রেরি ও রেকর্ডরুম শাখার দায়িত্ব।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার হাসিবুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে নেজারত, ট্রেজারি, গোপনীয়, জেলা ই-সেবা কেন্দ্র, মিডিয়া সেল, ফ্রন্ট ডেস্কের দায়িত্ব। একইভাবে তিনজন সিনিয়র সহকারী কমিশনার না থাকায় আশরাফুল আলম রাসেল একাই সাধারণ শাখা, শিক্ষা কল্যাণ, তথ্য ও অভিযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য শাখার দায়িত্ব পালন করছেন। এসব সহকারী কমিশনারদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ছাড়াও অতিরিক্ত বিকল্প দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলা প্রশাসনের কাজের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। নির্বাহী আদালত পরিচালনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, রাজস্ব প্রশাসন, সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ প্রশাসনসহ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা না থাকায় এসব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটছে। তা ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ফাইল নিষ্পত্তিতে সময় লেগে যাচ্ছে।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জেলার ৭ উপজেলায় প্রায় ২৭ লাখ লোকের বসবাস। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে নানা কাজে সাধারণ মানুষকে আসতে হয় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
জামালপুর জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শাখায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। বর্তমানে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনজন এডিসির মধ্যে পদোন্নতি পাওয়ায় দুজনকে বদলি করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তবে জনসাধারণের সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, জনবল সংকটের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা পদায়নের জন্য একাধিক পত্র পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তা পদায়নের ব্যাপারে আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তা পদায়ন হলে জেলা প্রশাসনে সংকট নিরসন হবে।

আরও পড়ুন

×