ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
×

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১৭

জ্বালানি সংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির কয়েকটি সরবরাহকারী ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হলেও মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্পকারখানার ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঝুঁকি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, এলএনজি সরবরাহব্যবস্থা এরই মধ্যে ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ ঘাটতিও দ্রুত পূরণ করা হবে।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নষ্ট হওয়ার প্রভাব এখনও রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই টার্মিনালটি নষ্ট হওয়ার পর ১৫ আগস্ট মেরামত করা হলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ সময়ে এলএনজি কার্গোর সময়সূচি নতুন করে ঠিক করতে হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুটি এফএসআরইউ থেকে স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা যায়। বর্তমানে ৭০০ থেকে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া যাচ্ছে। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতেও।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কয়েকটি কারণে চাপ রয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। রামপালের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় জাহাজ থেকে কয়লা লাইটারেজ করে মোংলায় আনা যাচ্ছে না। আবহাওয়া ভালো হলে দুই কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন প্রতিমন্ত্রী।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। জানান, দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যেত। অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছে আদানি। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আজ বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্যেও ঘাটতির চিত্র দেখা গেছে। দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৯৩৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৭৩৪ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল এক হাজার ২০৩ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে ১৬ হাজার ২০১ মেগাওয়াট হলে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৮৩৪ মেগাওয়াট; লোডশেডিং দাঁড়ায় এক হাজার ৩৬৭ মেগাওয়াট। রাত সাড়ে ৭টায় ঘাটতি কমে ৬৮৭ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

পেট্রোবাংলার আজকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৩৩ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট এবং এলএনজি ৭১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৪৬ কোটি ঘনফুট কম ছিল।

আরও পড়ুন

×