ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাপার প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পেলেন ২১ হাজার ৪৮৫ জন

বাপার প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পেলেন ২১ হাজার ৪৮৫ জন
×

অ্যাসেট প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রমে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০৩

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) পরিচালিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ শেষ করা ২১ হাজার ৪৮৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্যাচের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান অনুসরণের কাজ চলমান থাকায় এ সংখ্যাকে চূড়ান্ত কর্মসংস্থানের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

বাপা জানিয়েছে, কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের তথ্য আরও হালনাগাদ করা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপার্ক ও প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজারের বেশি, আকিজ গ্রুপে ৫৫৬, মেঘনা গ্রুপে ৪০৮, টি. কে. গ্রুপে ১ হাজার ১০৪, বনফুল ও কিষোয়ান গ্রুপে ৯১২ এবং হাশেম ফুডসে ২৮৮ জন যুক্ত হয়েছেন।

বাপার আওতাধীন অন্যান্য কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকে কাজ করছেন। নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অন্যান্য আয়মূলক কর্মকাণ্ডকেও কর্মসংস্থানের ফলাফলের আওতায় রাখা হয়েছে।

বাপার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৯টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। ব্যাচভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি শতভাগ অর্জন। প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৬ জন নারী এবং ১৯ হাজার ৯৬০ জন পুরুষ। অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীদের ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ নারী। পুরুষের তুলনায় নারী প্রশিক্ষণার্থী বেশি ৬ হাজার ১৩৬ জন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য অংশ নিয়েছেন।

এ পর্যন্ত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ৩১ হাজার ৬৮৪ জন প্রশিক্ষণার্থী দক্ষতা মূল্যায়নে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৯ হাজার ৬৩৭ জনকে দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্জনের হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

বাপা বলেছে, ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেও সবার দক্ষতা মূল্যায়ন এখনো শেষ হয়নি। একইভাবে দক্ষ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সবার কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্যও এখনো রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। চলমান ও সদ্য শেষ হওয়া ব্যাচের যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের তথ্য যাচাইকে তাই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বাপার এ কার্যক্রমটি অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণের অংশ। কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিএসটিপি) এবং শিক্ষানবিশ দ্বৈত-পদ্ধতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (এডিটিপি) আওতায় শ্রেণিকক্ষের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, খাদ্য সংরক্ষণ, মোড়কজাত যন্ত্র পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয় ও খুচরা বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব দক্ষতা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও তৈরি করছে বলে জানিয়েছে বাপা।

আকিজ, প্রাণ, হাশেম ফুডস, টি. কে., মেঘনা, ওয়েল ফুডস, রানি ফুড, ফুলকলি, বনফুল, কিষোয়ান, লালমাই ও দেশবন্ধুর প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ইউনিট এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ঢাকা, নরসিংদী, নাটোর, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এসব প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণে উৎপাদনপ্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মান অনুযায়ী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে স্তর-৩ ও স্তর-৪ এবং মান নিয়ন্ত্রণ, ঘরোয়া খাদ্য সংরক্ষণ, বিক্রয়, বেকিং ও শিল্প বেকিংয়ে স্তর-৩ প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাপা জানিয়েছে, শ্রমবাজারের চাহিদা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উচ্চতর দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার, দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরিতে নিয়োগ বাড়ানো, উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়মিত যাচাই করা হবে।

বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, আমাদের আওতায় ৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়াদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দক্ষ হয়েছেন যা উৎসাহব্যঞ্জক। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই দক্ষতাকে বাস্তব কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।

তিনি আরও বলেন, সদস্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×