ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষিমন্ত্রীর মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি বাথরুম ক্লিন করব’

‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি বাথরুম ক্লিন করব’
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৩০

‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব। সব বাথরুম জঘন্য’। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়ে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার দেখে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

গত মঙ্গলবার ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগদানের আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রী কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহানকে ডেকে শৌচাগারগুলোর এমন অবস্থার কারণ জানতে চান। জবাবে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের দাগ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না।

তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব এই মুহূর্তে। যদি ক্লিন হয়, তাহলে আমি আপনাকে প্রশ্ন করব কেন আপনাদের এই অবস্থা? আই ওয়ান্ট টু ক্লিন রাইট নাও।’ মন্ত্রী বলেন, একেক ফ্লোরে বাথরুম ৬টা, ৫টাই বন্ধ। পুরো বাথরুমগুলোর তো জঘন্য অবস্থা। রোগীরা পায়খানা-প্রস্রাব করবো কই? এসময় মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতার বিষয় নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো ডিরেক্টর হিসেবে জয়েন করছেন। ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হিসেবে চার মাস দায়িত্ব পালন করেন। এসব বিষয়ে তো আপনার নজর রাখার কথা। কিন্তু আমার কাছে যতটুকু রিপোর্ট আছে, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বাথরুম আপনাকে আমি নিজে দেখালাম। এগুলোর মধ্যে কোনো বাথরুম ব্যবহার করার উপযোগী নয়। এটার জন্য তো কিছু দরকার নাই, শুধু ক্লিন করলেই রোগীরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।’

মন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ও রোগীদের সেবার মান নিয়ে আলোচনা করেন। হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের কল্যাণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সভায় সাতটি উপকমিটি গঠন করা হয়।

সেগুলো হলো–পরিচ্ছন্নতা কমিটি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কমিটি, জরুরি বিভাগ কমিটি, ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণ কমিটি, খাদ্য কমিটি, দালাল প্রতিরোধ ও অ্যাম্বুলেন্স শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম শৃঙ্খলা তদারকি কমিটি।

জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান সমকালকে বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৭টি বাথরুম সচল আছে এবং ৩০টি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাথরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে দেবেন।

তার ভাষ্য, ওই মুহূর্তে ১৩৪৭ জন রোগী ভর্তি আছে। এসব রোগীর সাথে তাদের একাধিক স্বজনও রয়েছে। এ অবস্থায় এ হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে পরিচ্ছন্নকর্মীর ১৬৫ পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে। তাই জনবল সংকটের মধ্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

আরও পড়ুন

×