গাজীপুর
সংসার ভাঙার ক্ষোভে শ্যালককে হত্যা, ২ ঘাতকের স্বীকারোক্তি
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৬
স্ত্রীর কারণে সংসার ভেঙে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে শ্যালক সৌরভ আহমেদকে (২০) হত্যার পরিকল্পনা করেন রবিউল ইসলাম। পরে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধু শাহীন আলমকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত রবিউল ও শাহীন।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈরের একটি ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের কাপড় উদ্ধার করেছে গাজীপুর মহানগরের সদর থানা পুলিশ। গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৭ দিন পর স্বজনদের কাছে ফেরে সৌরভের দেহাবশেষ।
জানা যায়, জামালপুর সদরের তিতপল্লা গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে নিহত সৌরভ তাঁর মা কাকলী বেগমের সঙ্গে পশ্চিম জয়দেবপুরের গণি মুন্সীরটেক এলাকায় বসবাস করতেন। একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন সৌরভ। পুলিশ জানায়, সৌরভের ছোট বোন নূপুরের সঙ্গে প্রায় চার বছর আগে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মুরাগাছার রবিউল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে। এক পর্যায়ে নূপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নূপুর স্বামী রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে যান।
পুলিশের ভাষ্য, স্ত্রীকে হারানোর প্রতিশোধ নিতে রবিউল শ্যালক সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বন্ধু শাহীন আলমকে এতে যুক্ত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই দীপঙ্কর দত্ত জানান, গ্রেপ্তার রবিউল ও শাহীন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বলেন, গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহীনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানার উত্তর বিদ্যানন্দী এলাকার একটি ডোবার কাছে নেওয়া হয়। সেখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে দেহ টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
মহানগরের সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মা কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত নিখোঁজের ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে পুলিশ সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তাঁর মা বাদী হয়ে মামলা করেন।
- বিষয় :
- গাজীপুর