ধাপে ধাপে কমবে গ্যাসের সংকট, উন্নতি হবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির: তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৭
দেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এলএনজি) টার্মিনালের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এর ফলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-উভয় সংকটই ধাপে ধাপে কমে আসবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সেই পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদেশ থেকে আনা এলএনজি টার্মিনালে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, দেশে পরিচালিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাটি বড় ধরনের না হলেও টার্মিনালটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, এর প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই নয়, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনেও পড়েছে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করতে পারছেন না। গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা সীমিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যয়বহুল ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেছে। অতিরিক্ত ব্যয় বহন করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তারপরও কিছু এলাকায় লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, তিনি এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালটি ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। একবারে পূর্ণ সক্ষমতায় নয়, পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হবে। এর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোয় বৈশ্বিক বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে।
দেশের মানুষকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের আশা, এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বর্তমান সংকট ধাপে ধাপে কমে আসবে।
- বিষয় :
- গ্যাস
- বিদ্যুৎ সরবরাহ
- জাহেদ উর রহমান