ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের একার পক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়

সরকারের একার পক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়
×

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে আইওএম আয়োজিত মানবপাচারবিষয়ক গ্রন্থ ‘লিসেন’ এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : বাসস

বাসস

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩২ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩৭

মানবপাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে এই অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশীদারিত্বই পারে এই ব্যাধি নির্মূল করতে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত 'বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস'-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানবপাচারে উদ্ধারপ্রাপ্তদের সত্য ঘটনা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন' এর মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ধ্বংস করে না, এটি সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের এই বিস্তার রুখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানবপাচারের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি পরিমাপ করা যায় না। 

‘লিসেন' হলো দেশে পাচারের শিকার ভুক্তভোগী নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির উপর তৈরি প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ। এই গ্রন্থের মাধ্যমে সারভাইভারদের যে করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে সীমান্ত পার করে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে। এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি' শীর্ষক বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চালানো পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা প্রদান করা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইওএমর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ইউএনআরসি) ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×