মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৩ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৩
কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত সব কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ বাতিলসহ বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত মাসে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রুলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল, ইতিমধ্যে নির্মিত পাকা অংশ অপসারণ এবং ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর সংরক্ষিত বন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পরে আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ভূমিসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বনসংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বেলার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার সরকার ঘোষিত সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।
_1786027199.jpg)
বেলা জানিয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কাটা ও পাহাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণেই জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ১৯৫৪ সালে মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১০০ বছরের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে বন আইনের ২০ ধারার অধীনে এলাকাটি সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই বনভূমিতে বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা আইনত নিষিদ্ধ। এছাড়া বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ এবং বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই দৈনিক সমকালে প্রকাশিত 'বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য' শীর্ষক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মধুশিয়া বন এবং মহেশখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে বন ও বন্যপ্রাণীর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।