ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন পরীক্ষায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

নতুন পরীক্ষায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩১ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুই বছর ধরে চলা কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিলছিল। উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ, ভিসা কার্যক্রম আবার চালু এবং দ্বিপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরার ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়া নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন– এটি কি সাময়িক রাজনৈতিক উত্তাপ, নাকি শেখ হাসিনা ইস্যুই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন এক দীর্ঘমেয়াদি টানাপোড়েনের সূচনা করবে?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কূটনৈতিক ইতিহাসে কঠিনতম হিসেবে বিবেচিত হয়। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তাঁর প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেদিনই ভারতে পালিয়ে যান। এখনও সেখানেই আছেন তিনি। 

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায় কার্যকরের জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, সীমান্তে উত্তেজনা, রাজনৈতিক অবিশ্বাসের আবহ এবং ভিসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পর্যটনসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা আবার চালুর উদ্যোগ নেয় ভারত। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ নিয়েও আলোচনা এগোতে থাকে। কূটনীতিকদের ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্কে জমে থাকা ‘বরফ’ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে।

কিন্তু সেই ইতিবাচক ধারার মধ্যেই গত বুধবার নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নে শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি, চেষ্টা করেছি। এবং এর আগে আমরা কিন্তু বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তারা কেমন চায়।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টানাপোড়েনের পর বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে যাওয়ার কথা তুলে ধরে এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনার বক্তব্যের মাধ্যমে সেখান থেকে দুই দেশ পিছিয়ে গেল কিনা।

উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক, আমি বিশ্বাস করি যে দুই দেশের সরকার, দুই দেশের জনগণ সেটা চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, এই মুহূর্তে বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ যদি বিষয়টি এড়িয়ে যেত, তাহলে তেমন কিছু হতো না। তাঁর মতে, প্রয়োজনে ভারতীয় হাইকমিশনারকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হতে পারে। কিন্তু ঢাকা যে ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তাতে বোঝা যায় সরকার ভারতের সব পদক্ষেপ আর সহজভাবে নেবে না। 

ঢাকার কড়া বার্তা
দিল্লিতে ওই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের আগাম উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি এটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি অসম্মান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সরকারি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে অবস্থান করে বাংলাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ কেন দেওয়া হলো– এটাই আমাদের প্রধান প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জোরালো প্রতিবাদকে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রব্যবস্থায় নতজানু পররাষ্ট্রনীতির আর কোনো স্থান নেই।

এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও সতর্ক করেছিলেন– এ ধরনের আয়োজন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।

ভারতের ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনের আগেই ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সংবাদ সম্মেলনটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে দেওয়া বক্তব্যও ভারত সরকারের অবস্থান নয়।

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির ভারতের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি সমকালকে বলেন, দিল্লির সহযোগিতা ও সম্মতি ছাড়া শেখ হাসিনার পক্ষে এমন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভারতকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশ আগের অবস্থানে নেই। সমতা এবং সম্মানের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন এই কূটনীতিবিদ।

শেখ হাসিনাকে ভারতে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি, চেষ্টা করেছি। এর আগে আমরা কিন্তু বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তারা কেমন চায়।’

‘ঢাকা সন্তুষ্ট হবে না’
বার্তা সংস্থা এপি ও রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া এবং দেশে ফেরার ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই দেশই চেষ্টা চালাচ্ছিল। বাংলাদেশ সরকারের আগাম আপত্তি সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় কূটনৈতিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে সেই ব্যাখ্যা খুব বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প মেয়াদে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক অস্বস্তি ও বাগ্‌যুদ্ধ বাড়তে পারে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় আসবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক পুরোপুরি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাণিজ্য, ট্রানজিট, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো কৌশলগত স্বার্থ দুই দেশকে সহযোগিতায় বাধ্য করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক তৎপরতাই নির্ধারণ করবে এই উত্তেজনা সাময়িক থাকবে, নাকি গভীর সংকটে রূপ নেবে। তবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে সম্পর্ক আবারও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘ভারত একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করেছে। তবে আমার মনে হয় না, এই ব্যাখ্যা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে।’ তাঁর মতে, ভারত চাইলে এ সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করতে পারত। ফলে বাংলাদেশ এটিকে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখবে।

ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত সমকালকে বলেন, পর্যটন ভিসা আবার চালু হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছিল। দিল্লিতে ওই সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া সেই ধীরগতির অগ্রযাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিয়েছে। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সুসম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। তাই সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক আসিফ বিন আলি সমকালকে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চললেও একটি বড় বাধা রয়ে গেছে, যাকে তিনি ‘হাসিনা ব্লক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যকরভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে এবং মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিতে পারে।

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে আসিফ বিন আলি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কঠিন। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, যা হয়তো সংঘাতের দিকে এগোবে।

মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, সরকারের জন্যও একটি জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

 

আরও পড়ুন

×