বৃষ্টি আরও ৫ দিন, প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী এলাকা
সাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা
ফাইল ফটো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৫ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৬
বঙ্গোপসাগরে আজ শনিবারের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচদিন বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
আজ শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া রোববার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। মঙ্গলবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বুধবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে
শুক্রবার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় আগামী এক দিন নদীর পানি কিছুটা কমতে পারে। এর পর পরবর্তী দুই দিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আত্রাই নদীর পানি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
এদিকে তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এক থেকে তিন দিনের মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল ৮৪টি স্টেশনে নদনদীর পানি বেড়েছে। কমেছে ৪১টি স্টেশনে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদনদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে এ সময়ে পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদনদীতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকায় পানি ওঠার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।