ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসাধীন বন্দিদের বেড়ি, হাতকড়া আবার আলোচনায়

চিকিৎসাধীন বন্দিদের বেড়ি, হাতকড়া আবার আলোচনায়
×

ছবি: সমকাল ইপেপার

সাহাদাত হোসেন পরশ ও বকুল আহমেদ

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৫ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মিজানুর রহমান মনির খান। তাঁর নাকে নল ও গলায় পাইপ লাগানো। ডান হাতে হাতকড়া-দড়ি। আঙুলে অক্সিমিটার। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। মিজানুর রহমান (৪৮) ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।

২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছরের ১৮  ডিসেম্বের তাঁর মা মারা যান। মায়ের জানাজায় অংশ নিতে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় তিনি জানাজা পড়ান। অনুরোধের পরও তাঁর হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে দেয়নি পুলিশ।

ওই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আসামিদের ডান্ডবেড়ি পরানো কেন অবৈধ হবে না– তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুলে জানতে চাওয়া হয়– ডান্ডাবেড়ি পরানোর বিষয়ে নীতিমালা করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। রিটটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

গতকাল শনিবার রাতে সমকাল কথা বলে আলী আজমের সঙ্গে। তিনি সমকালকে বলেন, আমার ঘটনা নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছিলেন। আশা করি, দ্রুত এটির নিষ্পত্তি হবে। আলী আজম আরও বলেন, ‘যেটা আমার সঙ্গে হয়েছে, সেই অবিচার অন্য কারও সঙ্গে হোক, তা চাই না। আওয়ামী লীগের আমলে যে পরিস্থিতির শিকার আমরা হয়েছিলাম, সেটি যদি এখনও বহাল থাকে, তাহলে নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশ কীভাবে তৈরি হবে! অসুস্থ অবস্থায় ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরানোর উচিত নয়; সে যে দলের লোকই হোক না কেন।’  

পটুয়াখালী মিজানুর রহমানের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরানোর অমানবিক বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। উচ্চ আদালতের রুল ও সতর্কতার পরও কেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাচ্ছে না–  সে প্রশ্নও উঠেছে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে আসামির সঙ্গে নিষ্ঠুর বা অমানবিক আচরণ না করার বিষয়ে বলা আছে।

পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বা তদন্তস্থলে পাঠানোর সময় পালায়ন রোধে বন্দির সঙ্গে যা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি কড়াকড়ি করা উচিত নয়। হাতকড়া বা দড়ির ব্যবহার প্রায় ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ও অমর্যাদাকর। এতে আরও বলা হয়েছে, বয়স বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে যাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা সহজ ও নিরাপদ, তাদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা উচিত নয়। 

হাসপাতালে হাতকড়া পরানো যাবে না
২০১৭ সালের ২৬ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৪২ জনকে আটক করে পুলিশ। নাজমুল হাসান নামে এক আসামি অসুস্থ থাকায় পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। খাবার সময়ও হাতকড়া খুলত না পুলিশ।

এ ঘটনায় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। এরপর ২০১৮ সালে রায়ে আদালত হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রে পিআরবির বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হাতকড়া পরানো যাবে না। আসামি হলেও তাঁর মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে কারাবন্দি সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (৭৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই সময় তাঁর দুটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তাতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন নূরুল মজিদ; তাঁর চোখ দুটি বন্ধ।

তখন কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নূরুল মজিদের হাতে হাতকড়া পরা যে ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি মৃত্যুর আগের। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ছয় দফায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ছবিটি এই দিনগুলোর মধ্যে কোনো একটি সময়ে তোলা হয়ে থাকতে পারে। 

২০২৩ সালের নভেম্বরে যশোরের যুবদল নেতা ও কলেজ শিক্ষক আমিনুর রহমান মধুকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। নাশকতার মামলার আসামি ছিলেন তিনি। খাওয়ার সময়ও হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়নি তাঁর। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা উচ্চ আদালতের নজরে আনা হয়। তখন ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া খুলে তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে তাঁকে তিন মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আমিনুর রহমান মধু বর্তমানে যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি যশোর সদরের আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

নিজের সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গতকাল আমিনুর রহমান সমকালকে বলেন, রাজনৈতিক মামলার আসামিদের ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরানোর বিধান নেই। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের অতি উৎসাহে তাঁকে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। এটি অত্যন্ত অমানবিক। এতে একজন রাজনৈতিক কর্মীর পারিবারিক, সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনও।

আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি তো সন্ত্রাসী নই। চরমপন্থিও নই। এরপরও হাসপাতালে আমাকে ২৪ ঘণ্টা ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে রাখা হতো। খাবারের সময় অনুরোধ করলেও খুলে দেওয়া হয়নি।’

একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমিনুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক মামলার কোনো আসামির সঙ্গে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, এ ধরনের ঘটনা থেকে তাদের দূরে থাকা উচিত। রাজনৈতিক মামলার আসামি হলেই তাঁকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরাতে হবে– এমন সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। 

এখনও ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় অনেক আসামিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে যুবদলের এ নেতা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক মামলার আসামিকে যেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় এভাবে রাখা না হয়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমিনুর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাদের অনেক সহকর্মী ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তাদের বাবা-মা মারা গেলেও হাতকড়া নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে হয়েছে। এ ধরনের অমানবিক আচরণ আর যেন কারও সঙ্গে না ঘটে–বর্তমান সরকারের কাছে সেই দাবি জানাই।’

জেল কোড সংস্কার হওয়া দরকার
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দিকে হাতকড়া বা ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য এবং অমানবিক কাজ। এটি স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিশেষ করে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজন বন্দির পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকে না। পাহারা দিয়ে রাখলেই যথেষ্ট। হাতকড়া বা ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ‘এই প্রথা দীর্ঘদিন চলে আসার পেছনে প্রধান কারণ হলো দেশের কারা ব্যবস্থাপনা এবং জেল কোড সংস্কার না হওয়া। আইনগুলো পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এই আইন সংশোধনের জন্য আমরা বহুবার দাবি তুলেছি কিন্তু কার্যকর হয়নি।’ 

রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাব উল্লেখ করে নূর খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন বিরোধী দলে থাকে তখন তারা ওই পরিস্থিতির শিকার হয়ে সোচ্চার হয়। ক্ষমতায় আসার পর তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। যার ফলে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না।

সাবেক ডিআইজি প্রিজন মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, কারাগারে এমন বন্দি আছেন, যারা দরজা খুলে দিলেও যাবেন না। আবার অনেকে আছেন, তালা ভেঙে বের হয়ে যাবেন। যারা গুরুতর অসুস্থ বন্দি হিসেবে চিকিৎসাধীন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের হাতকড়া না পরালেই ভালো। তবে নিয়মের কারণে অনেক সময় কারা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি নিতে চায় না।

আইনের কথা শোনাতেন তারা 
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমানের স্ত্রী সালমা জাহান সমকালকে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কেরানীগঞ্জ, পটুয়াখালী, কাশিমপুর কারাগারে তাঁকে রাখা হয়। গত ৯ জুন কারা হেফাজতে থাকার সময় মিজানুর স্ট্রোক করেন বলে জানতে পারি। তাঁকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ৯ জুন হাসপাতালে গিয়ে তাঁর হাতে হাতকড়া দেখি।’ 

সালমা জাহান বলেন, ১৪ জুন মিজানুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ নেওয়া হয়। পরদিন নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। গুরুতর অসুস্থতায় আইসিইউতে থাকা অবস্থায় হাতকড়া খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে সেখানে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা বলেন, হাতকড়া খুলে দেওয়ার নিয়ম নেই। পরে ২০ জুলাই হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।

সালমা জাহান বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হতো। অনেক কষ্ট পেয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেল।’ 

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সমকালকে বলেন, জেল কোডে বলা আছে– হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দির হাতকড়া পরানো যাবে না। তবে নিরাপত্তার কারণে পরানো যাবে। প্রয়োজনে হাতকড়ার একটি অংশ হাতলের সঙ্গে লাগানো যাবে। তবে আদালত থেকে একটি নির্দেশনা অনুযায়ী, ডান্ডাবেড়ি এবং হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতন করা হয়েছে।

জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, সাধারণ ওয়ার্ডে লোকজন বেশি থাকে। এ কারণে হাতকড়া পরানো হয়। এর আগে অনেক বন্দি চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে গেছেন। 
সম্প্রতি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বন্দি মিজানুর রহমানের হাতকড়া পরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, তিনি যখন সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন, তখন হাতকড়া পরানো ছিল। আইসিইউতে নেওয়ার পরই হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। এর আগে স্বজনদের কেউ হাতকড়ার ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে দেন।  

কারা হেফাজতে মৃত্যু
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে এক হাজার ৭৩৬ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৬ জন বন্দির মৃত্যু হয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে। তাদের বেশির ভাগই হৃদরোগে আক্রান্ত, স্ট্রোকসহ নানা অসুস্থতায় মারা যান বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের।

কারাগারে আত্মহত্যা এবং বন্দির হাতে বন্দি খুনের ঘটনাও ঘটে। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আমড়া পেড়ে খাওয়ার ঘটনায় দুই কয়েদির মধ্যে মারামারি হয়। এক বন্দির লাঠির আঘাতে বাহারুল নামে এক কয়েদি মারা যান। তিনি একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।

কারাগারে বন্দি মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে বন্দিদের সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া বা অন্যান্য অব্যবস্থাপনার কথা বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল। রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স সংকট। কারাগারে বন্দিদের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি অবস্থার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

×