ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে শ্রেণি

বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে শ্রেণি
×

 দেলওয়ার হোসেন

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভিসা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা যুগোপযোগী করে প্রস্তাবিত ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন নীতিতে ভিসার শ্রেণি ৩৩টি থেকে বেড়ে ৩৪টি করার পাশাপাশি কয়েকটি পুরোনো শ্রেণিকে ভেঙে নতুন ক্যাটেগরি করা হয়েছে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, এনজিও ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য পৃথক কাঠামো রাখা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা এবং পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। এ ছাড়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন নীতিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ই-১, ই-২ ও ই-৩ ভিসা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ই-১ উন্নয়ন সহযোগীদের জন্য, ই-২ বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের জন্য এবং ই-৩ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি ব্যক্তিদের জন্য। তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য এফই-১, এফই-২ ও এফই-৩ শ্রেণি রাখা হয়েছে। এসব ভিসার ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিটের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সমকালকে বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করতেই এই নতুন ভিসা নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ভিসা নীতিতে আগে থেকে যে দেশ কালো তালিকাভুক্ত ছিল, সেই অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য বদল
ব্যবসায়িক ভিসা বি-এর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। প্রস্তাবিত নীতিতে একবারে অবস্থানের সময়সীমা ৯০ দিন এবং বহু ভ্রমণ সুবিধাসহ সর্বোচ্চ এক বছরের ভিসার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছর মেয়াদি বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ– এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পিআই এবং তাদের পরিবারের জন্য এফপিআই শ্রেণি রাখা হয়েছে।  

যুক্ত হচ্ছে মেডিকেল ও ট্রানজিট ভিসা
খসড়া নীতিতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত যাতায়াত সহজ করতে নতুন করে মেডিকেল ট্যুরিজম এবং মেডিকেল অ্যাটেন্ডেন্ট ভিসা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি টিআর নামে নতুন ভিসা শ্রেণিও যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশিদের জন্যও নতুন এফবিএন শ্রেণি রাখা হয়েছে। 

ধর্মীয় কার্যক্রমেও নতুন শ্রেণি
ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য আরটি (রিলিজিয়াস, তাবলিগ জামায়াত ও ইজতেমা) নামে নতুন ভিসা শ্রেণি রাখা হয়েছে।  
এ ছাড়া এনজিও এবং মানবিক কার্যক্রমের জন্য এন-১ ও এন-২ এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য এফএন-১ রাখা হয়েছে। এন-১-এর আওতায় বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওতে কাজ এবং এন-২-এর আওতায় জরুরি মানবিক সেবা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে। তবে নতুন নীতির অন্যতম আলোচিত বিদ্যমান ডব্লিউ ক্যাটেগরি বাদ দেওয়া হয়েছে। 

সাংবাদিকদের ভিসাতেও পরিবর্তন
খসড়া নীতিতে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের জন্য জে এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য এফজে ভিসা থাকছে। তবে সাংবাদিক ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু বিধান বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০০৬ সালের নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় ভিসাকে সরকারি, ব্যবসা-বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, এনজিও-মানবিক, গণমাধ্যম-পেশাজীবী, ধর্মীয়, গবেষণা-শিক্ষা, পরিবার, পর্যটন-ট্রানজিট ও বিশেষ উদ্দেশ্য– এভাবে ১০টি বড় সেগমেন্টে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কমিশনের অধীনে গঠন করা হবে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম) ইউনিট। কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও থাকছে নতুন কাঠামো। একজন চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিশনে অন্তত একজন নারী রাখার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি নৃগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×