ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

গণিত-ইংরেজির ভরাডুবিতে ১৫ বছরে সর্বনিম্ন পাস

এই দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

গণিত-ইংরেজির ভরাডুবিতে ১৫ বছরে সর্বনিম্ন পাস
×

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ভবন

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৯ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১০:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। এবার পাসের হার নেমেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। 

শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করায় পাসের হার এমন তলানিতে নামে। অন্যসব বিষয়ে যেখানে পাসের হার ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশের ওপর, সেখানে ইংরেজি প্রথমপত্রে পাসের হার সর্বনিম্ন ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। গণিতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ। এই দুই বিষয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। 

পাসের হারের মতো জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভাগভিত্তিক ফলেও বড় ধস হয়েছে। আট প্রতিষ্ঠানে পাস করতে পারেনি একজন শিক্ষার্থীও। 
বিষয়ভিত্তিক ফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবার সর্বোচ্চ পাসের হার তথ্য এবং যোগাযোগে, যা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া বাংলায় ৯৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, খ্রিষ্টান ধর্মে ৯৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, হিন্দু ধর্মে ৯৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, জীববিজ্ঞানে ৯৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ, রসায়নে ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ, ব্যবসায় উদ্যোগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। ইংরেজিতে ৩৫ হাজার ৮৬৬ জন ও গণিতে ২৫ হাজার ৭৭৩ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। 

এবার জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন, গতবার ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। সবদিক দিয়েই ছাত্রীদের চেয়ে পিছিয়ে ছাত্ররা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ইংরেজি ও গণিতে এবার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী খারাপ করেছে। দুই বিষয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্যও হয়েছে। বোর্ডের সামগ্রিক ফলে বড় ধাক্কার পেছনে এটি বড় কারণ। এজন্য শিক্ষার্থীদের অমনোযোগ, পড়ালেখায় কম সময় দেওয়া এবং বেশিরভাগ সময় আন্দোলনমুখী হওয়াই কারণ।

বোর্ড সচিব জহিরুল হক স্বপন বলেন, গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভিত্তিগত দুর্বলতা রয়েছে। গণিতে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও ইংরেজিতে ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতিও প্রকট। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বিষয়ে বাড়তি সময় দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী কম সময় দিয়েছে। 

১৫ বছরে সর্বনিম্ন ফল
ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বোর্ডের পাসের হার কখনও ৭২ শতাংশের নিচে নামেনি। এরমধ্যে ২০১১ সালে ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক ফলেও বড় ধস
এবার মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে। ২০২৫ সালে এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও গতবার পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ। গতবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ থাকলেও এবার সেটি নেমে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশে। 
৮ স্কুলের কেউ পাস করেনি
এবার আট স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল, আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাই স্কুল, মহালছড়ি হাইস্কুল, উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল, ভাইবোন ছড়া গার্লস হাইস্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া হাইস্কুল, তারাবানিয়া হাইস্কুল এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল।

আরও পড়ুন

×