আবাসিক হোটেলে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ
রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার
প্রতীকী ছবি
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪২ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৪) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর আহত স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পপি (২৩) এবং ১০ মাস বয়সী শিশুসন্তান ফাতিহাকে।
আমিনুল ইসলাম পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পদে রাঙামাটি পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। তিনি মিরসরাই উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাগলখাইয়া গ্রামের আবদুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল বশরের ছেলে।
গতকাল সোমবার সকালে মিরসরাই থানা পুলিশ খবর পেয়ে উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের রিল্যাক্স জোন আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর আহত স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় তারা।
রিল্যাক্স জোন আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত রোববার দুপুরে ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ আমিনুল ইসলাম একদিনের জন্য হোটেলে ওঠেন। সর্বশেষ রাত ১০টায় তিনি হোটেল থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে রাতের খাবার নিয়ে আসেন। তাঁকে এ সময় স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। সোমবার সকাল ১১টায় তারা হোটেল ছাড়ছেন না দেখে ম্যানেজার হোটেল কক্ষের দরজা খুলতে বললে অনেকক্ষণ পর ভেতর থেকে তাঁর আহত স্ত্রী দরজা খুলে দেন। দরজা খুললে দেখেন আমিনুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। খাটের নিচে আহত স্ত্রী ও শিশুসন্তান পড়ে আছে। পুলিশ আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে এবং তাঁর আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত আমিনুলের শ্যালক শাহরিয়ার ইফাস জানান, তাদের বাড়ি একই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাজিশরাই গ্রামে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বোনের সঙ্গে আমিনুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও গত এক বছর পারিবারিক কলহের কারণে সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা তাদের বাড়িতে ছিলেন। মাঝেমধ্যে আমিনুল তাদের বাড়িতে যেতেন। রোববার সকালে তাঁর মা আমেনা বেগম মেয়ে তাহমিনা ও নাতনিকে নিয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদে ফাতিহার জন্মনিবন্ধন তৈরি করতে এসেছিলেন। এ সময় আমিনুলও আসেন। কাজ শেষে তাহমিনাকে তাঁর মা নিয়ে যেতে চাইলে আমিনুল বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবেন বলে জোর করে রেখে দেন। এরপর সোমবার পুলিশের ফোন পেয়ে তারা হোটেলে আসেন। তাদের শিশুটি আমাদের কাছে ভালো আছে।
নিহতের বড় ভাই মো. হাসান জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে আমিনুলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকত। রোববার ছুটি নিয়ে সে বাড়িতে আসার বিষয়ে তারা কিছু জানতেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহের নিগার জানান, তাহমিনা আক্তার নামে একজনকে বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মুখ ফোলা, নাক দিয়ে রক্ত পড়ার লক্ষণ ছিল, গলায় কিছু প্যাঁচানোর দাগ এবং মুখ বাঁকা ছিল। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমনটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- লাশ উদ্ধার
- মরদেহ উদ্ধার