গাংনী থেকে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
৭৯টি মানববিধ্বংসী এবং ১৭টি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী মাইন
মেহেরপুরের গাংনীর বেতবাড়িয়া গ্রামের জমিতে গতকাল সোমবার দুপুরে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার পর খনন করেন সেনাসদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ৯৬টি মাইন উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করা হয় -সমকাল
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও ১৭টি অ্যান্টি ট্যাঙ্ক মাইন রয়েছে। গত শনিবার সন্ধান পাওয়া মাইনগুলো গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উদ্ধার করা হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ও ভয় দূর হলো।
গত শনিবার সকালে ল্যান্ডমাইনসদৃশ বস্তুগুলোর সন্ধান পেয়ে পুলিশকে জানায় এলাকাবাসী। পুলিশ প্রথমে খুলনার বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে জানায়। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরামর্শে সেগুলো উদ্ধারে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেয় তারা। সে অনুযায়ী আইএসপিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেহেরপুরের পুলিশ ও বিজিবি। পরে গতকাল বিকেলে যশোর সেনানিবাসের মেজর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়কারী দল মেহেরপুরে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাইনগুলো উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থানীয় মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। পুলিশ ও বিজিবি তিন দিন ধরে ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখা জমিতে ধাপে ধাপে মাটি খনন করে উদ্ধার করা হয় ৭৯টি মানববিধ্বংসী এবং ১৭টি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী মাইন। পরে বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মধুগাড়ি মাঠের নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেন।
গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, সেনাবাহিনীর চৌকস দল মাইনগুলো স্থানীয় মধুগাড়ির মাঠে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করেছে। এলাকাটিতে বসতবাড়ি থাকায় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থেকে পুলিশ ও বিজিবি নিয়ন্ত্রণ নেয়। মাইনগুলোর কার্যক্ষমতা ছিল। সেনাবাহিনী সতর্কতার সঙ্গে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাঙগাড়ি মাঠে ১৯৭১ সালে এই এলাকায় সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। অনেক মানুষ হতাহত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনী এখানে এসব মাইন সংরক্ষণ করে রেখেছিল।
- বিষয় :
- সেনাবাহিনী
- অস্ত্র