বায়োফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে এগিয়ে নিতে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৪
দেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে পরবর্তী ধাপে নিতে এবং বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দ্রুত একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ খাতে প্রায় ১০ হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। সরকার সাধারণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন: বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে। এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তর করার। এটিকে শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না; জাতীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বিকাশে কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বায়োসিমিলার নিয়ে দেশের নিজস্ব গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো হবে। শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তরুণ গবেষকদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ড. মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বিকাশ ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
অংশীজনদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, ডিজিডিএ পরিচালক নাঈম গোলডার, জেনেক্স হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুনিয়া আমিন, সাদাফ সাজ, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সোহেল রানা প্রমুখ।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী