ঢাবির ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবি, ৭৪ বিশিষ্টজনের সংহতি
ফাইল ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৩৪
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন পেশার ৭৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
রোববার এক বিবৃতিতে তারা ছাত্রীদের রাত দশটার মধ্যে হলে প্রবেশ ও চলাফেরার ওপর এ ধরনের সময়সীমা আরোপের বিরোধিতা করেন।
সোমবার কবি ও লেখক নাহিদ হাসান বিবৃতিটি সংবাদমাধ্যমে পাঠান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সান্ধ্য আইন ভেঙে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলেন। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পরও শিক্ষার্থীদের সান্ধ্য আইন বাতিলের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দূরবর্তী এলাকা থেকে ভোরে ঢাকায় পৌঁছানো কোনো ছাত্রী নির্ধারিত সময়ের আগে হলে ঢুকতে না পারা, টিউশনি শেষে যানজটে পড়ে নির্ধারিত সময়ের পরে হলে ফেরার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়া কিংবা রাতে অসুস্থ হলে অভিভাবকের উপস্থিতি ছাড়া হাসপাতালে যেতে না পারার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় সান্ধ্য আইন বহাল রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, আবাসিক ছাত্রীদের চলাফেরার ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক রক্ষণশীলতা ও হল ব্যবস্থাপনার যুক্তি দেখানো হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এসব যুক্তি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিবৃতিদাতারা বলেন, রাতে বাইরে থাকলে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকতেই পারে। তবে ঝুঁকি থাকা এবং অধিকার সীমিত করার যৌক্তিকতা এক বিষয় নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরাপদ গণপরিবহন, পর্যাপ্ত আলো, পুলিশি সেবা, দ্রুত বিচার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নারীদের ঘরে আটকে রাখা নয়।
তারা আরো উল্লেখ করেন, কেউ অপরাধের শিকার হতে পারেন—এই সম্ভাবনার কারণে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর স্বাধীনতা সীমিত করা হলে অপরাধীর দায় পরোক্ষভাবে ভুক্তভোগীর ওপর চাপানো হয়। রাতে বাইরে থাকা নিরাপদ না হলে প্রশ্ন হওয়া উচিত, কীভাবে রাতের জনপরিসরকে নিরাপদ করা যায়; নারী শিক্ষার্থীরা কেন রাতে বাইরে থাকবে, সেটি নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার কারণে রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত ও সবার জন্য প্রযোজ্য বিধিনিষেধ দিতে পারে। কিন্তু শুধু নারী হওয়ার ভিত্তিতে চলাফেরা সীমিত করা হলে তা বৈষম্যের প্রশ্ন তৈরি করে।
বিবৃতিদাতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে সান্ধ্য আইনের মতো কোনো বিধান নেই। তারা সান্ধ্য আইন বাতিলের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।
বিবৃতিতে সংহতি জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও লেখক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, দার্শনিক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক শহীদুল আলম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট অধ্যাপক আজফার হোসেন, মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, অরূপ রাহী, উমামা ফাতেমা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অনুপম দেবাশীষ রায়, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা, সাংবাদিক ও গবেষক সাদিক মাহবুব ইসলাম, চলচ্চিত্রকার খন্দকার সুমন, আইনজীবী মানজুর আল মতিন, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ, কবি সোয়েব মাহমুদ প্রমুখ।
সম্প্রতি 'অবরোধবাসিনী' ব্যানারে ২৪ ঘন্টা হলে প্রবেশ করা, বৈধ পরিচয়পত্র সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশ ও রাত্রি যাপন এবং ছাত্রীদের স্বজন মা ও বোনকে হলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন ডাকসুতে বামপন্থী 'প্রতিরোধ পর্ষদ' প্যানেলের প্রার্থীরাসহ একদল ছাত্রী। এ ছাড়া 'বৈষম্যহীন হল চাই' নামে আরেকটি ব্যানারেও একই দাবি জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- হল