ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
×

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০৩

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তাঁর মতে, মাঠ থেকে দূরের সংরক্ষণাগারে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ কমানো গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমবে। এ জন্য উৎপাদনস্থলের কাছাকাছি ছোট আকারের কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের ধারণা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে কার্গো ভিলেজ, কোল্ড স্টোরেজ ও কুল রুমসহ বিমানবন্দরে বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক যে এলাকায় ফসল উৎপাদন করবেন, তার কাছাকাছি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে ফসল পরিবহনের ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফসল দ্রুত সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, কোনো ক্যারিং কস্ট নাই। তাহলে তার কস্টিংটা কমে যাবে। এই কনসেপ্ট নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

শাকসবজির দাম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শাকসবজির দাম বেশি মনে হলেও উৎপাদন খরচের বিষয়টিও দেখতে হবে। কারণ কৃষকেরও পেট আছে, সংসার আছে, বাঁচতে হবে।

বর্ষা মৌসুমে সবজি উৎপাদনের ব্যয় তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে সবজি উৎপাদন সহজ নয়। জমিতে পানি জমে গেলে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। কাঁচামরিচের মতো কিছু ফসল উৎপাদনে শেড তৈরি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল।

সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক কেজি করলা ফলাইতে কয় টাকা খরচ হয়, একটু দেখেন না।

কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন এখনো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদন ও চাহিদার হিসাব আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় যে কৃষিপণ্যের চাহিদা বেশি, সেই অনুযায়ী ওই এলাকার কৃষকদের নির্দিষ্ট ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করা গেলে পরিবহন খরচ কমানো সম্ভব। এতে স্থানীয়ভাবেই উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি জানি আমার এই জেলায়, এই উপজেলায় ভেজিটেবলের চাহিদা আছে, সেই অনুযায়ী ওই এলাকার কৃষককে যদি উদ্বুদ্ধ করতে পারি—ভাই, তুমি এটা ফলাও, তোমার উপজেলায় এটা বিক্রি হবে। এর কিন্তু ক্যারিং কস্ট নাই।’

কৃষিমন্ত্রীর মতে, কোন এলাকায় কোন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা করা গেলে কৃষকের পরিবহন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখাও সহজ হবে।

নিজের বাজার করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিদিন বাজার করেন এবং সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে যান। মহাখালী বাজার তাঁর পরিচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×