ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমতার অংশীদারত্ব চায় ইইউ

দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমতার অংশীদারত্ব চায় ইইউ
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:২৫

বাংলাদেশের সঙ্গে পুরনো দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে সমতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর ও সংস্কারে সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পর্ককে শুধুমাত্র পুরনো দৃষ্টিতে দেখছি না। আমরা আসলে সম্পর্কটাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখছি। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব আছে। বাংলাদেশকে এমন অংশীদার হিসেবে দেখছি আমরা এবং আমি নিশ্চিত আপনারা সেভাবে ভাবেন।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, খুব সাধারণ কিন্তু মৌলিকভাবে খুবই শক্তিশালী চিন্তাভাবনার ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়া। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে সমতার অংশীদারত্ব আমরা গড়তে পারি এবং সেটাই গড়া উচিত।

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়েও ইইউ সচেতন।

ইইউ কেবল পণ্যের বাজার বা উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের আধুনিকায়ন ও রপ্তানির বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করতে ইইউ প্রস্তুত বলেও জানান।

মূলত অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো অরাজনৈতিক বিষয় দিয়ে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের শুরু হলেও এখন তা অনেক বেশি রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরও সেই প্রক্রিয়া এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহযোগিতার বিষয়ে ইইউর অবস্থান পরিষ্কার।

তিনি বলেন, “যেসব সংস্কার আকাঙ্ক্ষা জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং মুক্তপথ, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে তুলে ধরে, সেগুলোকে আমরা সমর্থন করি।”

তবে সংস্কার খুব সহজে বা দ্রুত সম্পন্ন হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর জনগণের একটি অংশের মধ্যে পরিবর্তন খুব দ্রুত হবে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইউরোপে কয়েক দশকের সংস্কারসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, গভীর পরিবর্তনে সময় লাগে।

তিনি বলেন, এটাতে সময় লাগে। এমনকি যখন আপনার অনেক সম্পদ, সুসংগঠিত প্রশাসন এবং কাজ করার মতো বিপুল সক্ষমতা থাকে, তখনও এটাতে অনেক সময় লাগে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংস্কারের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকবে, সেটা আমাকে অবাক করছে না। তবে, যে ইচ্ছাটা আছে, সেটাকে উৎসাহিত করতে হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিমুখী সম্পর্কের পরবর্তী ধাপে যেতে ব্যাপক প্রস্তুতি, রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং জটিল সংস্কার কার্যক্রম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে রূপান্তরিত হচ্ছি, যা নির্ধারণ করবে বাজার খুলে দেওয়া এবং ইইউ ও বাংলাদেশের আরও বেশি মাত্রার দ্বিমুখী আদান-প্রদান।’

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে বাংলাদেশ যে আগ্রহ দেখিয়েছে, তা ইইউ বিবেচনা করছে বলেও জানান মাইকেল মিলার।

আরও পড়ুন

×