সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগের সরকারে পুলিশে দলীয় নিয়োগের তদন্ত শেষ পর্যায়ে
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৯ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৩
আগের সরকারের সময়ে পুলিশে দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগের অভিযোগের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তদন্ত শেষ হলে তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জয়নাল আবেদিন ফারুক জানতে চান, আগের ১৭ বছরে দলীয়ভাবে পুলিশে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না। একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যাও জানতে চান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলীয়ভিত্তিক নিয়োগ যেটা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় হয়েছে, সেটার তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। তদন্তে কয়েকটি জেলায় পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল, এসআই এবং অন্যান্য পদবীর লোকজন নিয়োগ হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। সংশ্লিষ্ট জেলার বাসিন্দা না হয়েও অনেকে জেলা কোটার সুবিধা নিতে স্থায়ী ঠিকানা বদলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে ডিস্ট্রিক্ট কোটায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য যেই জেলার মানুষ তিনি নন, সেই জেলায় গিয়ে বিশেষ করে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং কিশোরগঞ্জ, এরকম চার-পাঁচটি জেলা আইডেন্টিফাই করা হয়েছে।’ তদন্ত শেষ হলে এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অভিযানের মধ্যে লুট হওয়া কিছু কিছু অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আলাদা কমিটি করা হয়েছে। সব বাহিনী মিলিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে।
রংপুর-৬ আসনের সদস্য মো. নুরুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জনবল বাড়াতে নতুন চার হাজার নিরস্ত্র এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট এবং এক লাখ কনস্টেবলের পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পদ সৃষ্টি হলে রংপুর জেলাতেও পুলিশের জনবল বাড়বে। পুলিশের যানবাহনের ঘাটতি পূরণেও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এই সময়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আলোচিত অপরাধের পাশাপাশি আলোচনায় না আসা ঘটনাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এবং ২০২৬ সালের একই সময়ের চিত্রের তুলনা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মব বা সংঘবদ্ধ জনতার সহিংসতার ঘটনা ৮৯ থেকে কমে ৫৬ হয়েছে বলেও সংসদে তথ্য দেন তিনি। সংখ্যালঘুদের ঘিরে ঘটনার সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৯৯৯ থেকে চলতি বছরের একই সময়ে ১৬৩টিতে নেমে এসেছে। এটা একটা বৈপ্লবিক উন্নতি না বললেও দৃশ্যমান এবং জনপ্রত্যাশিত উন্নতি হয়েছে।
জামালপুর-৫ আসনের সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সাল হতে ২০২৪ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৪১ জনকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে শটগান ৭৩০৮, পিস্তল ৫৩৪৭, রিভলভার ৫৯৪, রাইফেল ৯৪৮, অন্যান্য ৫৪৪৪টি।
সংরক্ষিত আসনের বিএনপির এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব সহিংসতায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধের বিচার করার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কেবল রাষ্ট্রের। আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত কাউকে সাজা দেওয়া বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
- বিষয় :
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- পুলিশ
- সালাহউদ্দিন আহমদ