ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

ধূমপান করতে নিষেধ করায় বাবাকে কুপিয়ে আহত, চাচাকে হত্যার অভিযোগ

ধূমপান করতে নিষেধ করায় বাবাকে কুপিয়ে আহত, চাচাকে হত্যার অভিযোগ
×

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৭

রাজশাহীর পবায় ধূমপান করতে নিষেধ করায় বাবা ও চাচাকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে চাচাকে হত্যা এবং বাবাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আলফাজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় বাবা ও চাচার পাল্টা হামলায় আলফাজ নিজেও আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইদ্রিস আলী (৫০) আলফাজের চাচা। গুরুতর আহত তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলফাজও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আবু বকর তাঁর ছোট ভাই ইদ্রিস আলী, ছেলে আলফাজ ও কয়েকজন শ্রমিককে নিয়ে জমিতে ধান চাষ ও পাট কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় আলফাজ তাঁর বাবার সামনে বিড়ি ধরিয়ে ধূমপান শুরু করেন। এতে আবু বকর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।

এ সময় স্থানীয় আক্তার হোসেন, মেরাজসহ কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে তাঁদের হাতাহাতি থামিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তাঁদের থামাতে এগিয়ে যান। তখন আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তাঁর বাবা আবু বকর ও চাচা ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁরা হামলা ঠেকাতে পাল্টা আঘাত করলে আলফাজও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার হোসেন বলেন, প্রথম দফায় ঝগড়া থামানোর পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ইদ্রিস আলী তাঁদের থামাতে গেলে আলফাজ হাসুয়া দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় আবু বকর ও আলফাজও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আবু বকরকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এবং আলফাজকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্ত্রী নির্যাতনের একটি মামলায় গত রোববার কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন আলফাজ।

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত এবং আবু বকর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আলফাজকে আটক করা হয়েছে। তিনিও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ইদ্রিস আলীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×