ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযানে কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযানে কালা মোবারকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
×

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন চট্টগ্রাম জেলা  পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম সদস্য মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন রায়হান, ফরিদ ও নাছির।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। 

পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোবারক ও তার সহযোগীরা গুলি ছোড়েন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল। এ ছাড়া ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ এমএম গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা ও চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, উদ্ধার হওয়া ব্রাজিলের তৈরি ৯ এমএম পিস্তলটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার মোবারক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র পরিচালনায় সে ব্যাপক পারদর্শী। বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।

পুলিশ আরও জানায়, মোবারক রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং সেগুলো কীভাবে অপরাধীদের হাতে এসেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 

আরও পড়ুন

×