ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, ছবিতে না ফেরার গল্প

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, ছবিতে না ফেরার গল্প
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫০ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর শুধু তাঁর অনুপস্থিতিই তৈরি হয় না; থমকে যায় একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও। ঘরের দরজা, ব্যবহৃত চেয়ার, ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র– সবকিছুই তখন হয়ে ওঠে অপেক্ষার স্মারক। কেটে যায় বছর, কিন্তু পরিবারের কাছে শেষ হয় না অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবার ধরা পড়েছে আলোকচিত্রে। 

জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প ক্যামেরায় ধারণ করেছেন আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ ও মোশফিকুর রহমান জোহান। আজ রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস সামনে রেখে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ‘মায়ের ডাক’। 

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা, আইনি সুরক্ষা, বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনাও হয়। ‘নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনতে: আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বক্তারা। 

আলোচনায় নিজের গুমের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, তিনিও এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার হয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শক্তিশালী গুম প্রতিরোধ আইন থাকা জরুরি। কারণ কোনো সরকারই স্থায়ী নয়; কিন্তু একটি আইন ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর সময়েও কার্যকর থাকবে। ফলে যে ব্যক্তি গুমের শিকার হবেন, তিনি যে পক্ষেরই হোন, তাঁর বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। 

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী পক্ষকে দমনের অংশ হিসেবেই গুমের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। 
মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গত ১০ এপ্রিল তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং কিছু ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচিত সরকার এই বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, মায়ের ডাকের অন্যতম সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি চলবে।

আরও পড়ুন

×