ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়কর আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ঢাকার অঞ্চল-৪

আয়কর আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ঢাকার অঞ্চল-৪
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৫

চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আহরণের আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঢাকার কর অঞ্চল-৪। রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নেতৃত্বে নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। তবে এরই মধ্যে অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট প্রায় শেষ হলেও জুলাইয়ের রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ২৭ আগস্ট জুলাই মাসের রাজস্ব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগ তাদের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৃহৎ করদাতা ইউনিটসহ ৫০টি কর অঞ্চলের জুলাই মাসের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঢাকার কর অঞ্চল-৪। কর অঞ্চলটি জুলাই মাসের ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের জুলাই মাসে আদায় এর চেয়ে কম হয়েছিল, মাত্র তিন কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে আদায়ের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ।

আলোচ্য জুলাই মাসে ঢাকার কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন সেলিনা সুলতানা। ২০ আগস্ট তাঁকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তা সিআইসির দায়িত্ব পেলেন।

জানা গেছে, ঢাকার কর অঞ্চল-৪-এ জুলাই পর্যন্ত বিতর্কিত বকেয়ার পরিমাণ ছিল এক হাজার আট কোটি ৯২ লাখ ও অবিতর্কিত বকেয়ার পরিমাণ ৩৩৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসে আদায় হয়েছে মাত্র চার কোটি ১৭ লাখ টাকা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর অঞ্চলটির এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে লক্ষ্যমাত্রা বেশি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এই কর অঞ্চল থেকে প্রায় ৮০ হাজার করদাতাকে বিভিন্ন কর অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে; যেখানে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন সেবা ও খাতের করদাতা রয়েছেন। অর্থাৎ, তাদের টিআইএনগুলো অন্য কর অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন করে ৪০ হাজার টিআইএন এই অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে আয়কর খাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে। 

ঢাকার কর অঞ্চল-১ জুলাইয়ে ৯৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৫৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় করেছিল ৪৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ সময় কর অঞ্চল-২ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৬৮ কোটি টাকা; যেখানে তাদের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলে আদায় হয়েছিল ৪৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। কর অঞ্চল-৩ জুলাইয়ে ১০২ কোটি ৪০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকা; যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেশি।

এ সময় ৯৮ কোটি টাকার বিপরীতে ৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আদায় করেছে কর অঞ্চল-৫। গত অর্থবছরের একই সময়ে তাদের আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। কর অঞ্চল-৬ জুলাইয়ে ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় করেছে ৩২ কোটি তিন লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তারা আদায় করেছিল ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া কর অঞ্চল-৭ জুলাইয়ে আদায় করেছে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, তাদের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তারা আদায় করেছিল ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন

×