তিন বিক্রেতাকে আটকের পর গুলি, আহত ৪
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার রেললাইন এবং এর আশপাশে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মাঝেমধ্যেই মাদকের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে কারবারিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত রোববার রাতেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন এবং বিএনপির এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত মামলা হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, রোববার সন্ধ্যায় গেণ্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলায় মাদক বিক্রির সময় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী মনির হোসেনের লোকজন মো. রিফাত, মো. বিল্লাল ও মো. রাকিব নামে তিন তরুণকে হাতেনাতে আটক করে। পরে তাদের মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধরের পর তিনজনকেই গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে একই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী অটো সজল গ্রুপের অন্তত ২০ জন রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে এসে মনিরের লোকজনের ওপর হামলা চালায় এবং কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা দুই গ্রুপের লোকজনের হাতেই দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখেছেন। এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে স্থানীয় দোকানিরা দ্রুত দোকান বন্ধ করতে থাকেন। এ সময় গুলিতে চা দোকানি আলমগীর এবং পথচারী আশা আক্তার ও সিয়াম আহত হন। রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবু আহত হন। তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পুলিশ জানায়, অটো সজলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ প্রায় দুই মাস আগে গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশের হাতে মাদক মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং সেই থেকে কারাগারে আছেন। তিনি কারাগারে থাকলেও তার লোকজন মাদক ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
মুন্সিরটেকের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই এলাকায় রাস্তাঘাটে ইয়াবা বিক্রি হয়। তাদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকে। রোববার ঘটনার সময় তিনি একটি দোকানের পাশে বসেছিলেন। গুলির শব্দ পেয়ে তিনি বাসায় চলে যান।
গতকাল সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। এ ছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন বলছে, মাদক বিক্রেতাকে আটক করার জেরে দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। গেণ্ডারিয়া থানার এসআই আবদুল কাদের রোববার ফোর্সসহ টহল ডিউটি করছিলেন। করাতিটোলা মোড়ে মুন্সিরটেক ও স্বামীবাগ এলাকার লোকজনের সহায়তায় মাদক বিক্রেতা রাকিব, রিফাত ও বিল্লালকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৯৬ পিস ইয়াবা ও ৩৩ পুরিয়া গাঁজা পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় আসামিদের থানায় নেওয়া হয়। মুন্সিরটেক-স্বামীবাগের লোকজন ওই তিনজনকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ায় ২০ জন স্বামীবাগ-মুন্সিরটেকে হামলা চালায়।
গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড গুলির খোসা ও অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- গুলি