ডা. জাহেদ বললেন
বিদ্যুৎ সংকট কাটতে দুই বছর নয়, স্বাভাবিক হবে শিগগিরই
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৩৬
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি সমাধানে দুই বছর সময় লাগলেও দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এতটা সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
অর্থমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে বলার পর এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই বছর অপেক্ষা করে তারপর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে– বিষয়টি এমন নয়। বাংলাদেশ এক, দুই, তিন বা চার বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছানোর আশা করছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি গ্যাসিফিকেশন ইউনিটে সমস্যা এবং জ্বালানি সরবরাহে কিছু ঘাটতির কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা ঠিক হয়ে গেলে দ্রুতই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
লোডশেডিং কমবে স্বল্প সময়েই
চলমান লোডশেডিংও খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, এবার এর বোঝা শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে ঢাকাসহ বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলকভাবে বেশি নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ দেওয়া হতো। এবার সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন বেশি হলেও সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে।
দুই বছরের হিসাব নতুন অবকাঠামোর
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকেই দুই বছরের সময়সীমার কথা বলা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে অর্ডার দেওয়া হয়েছে এবং সেটি দেশে আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বাপেক্স ১৫০টি কূপ খনন ও পুনর্খননের কাজ করছে বলেও জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে আনার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম রূপপুরে
দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার। জাহেদ উর রহমান জানান, সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের দিকে যাবে।
এলএনজি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি
তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায় না বলে সতর্ক করেন উপদেষ্টা। এর অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। তিনি জানান, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪-২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দাম ৩০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হতে পারে।
সার সংকট নেই, সমস্যা ছিল বিতরণে
দেশে সার সংকট নেই বলে দাবি করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। দু-একটি এলাকায় বিতরণ পর্যায়ে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল।
ই-রিকশার জন্য নীতিমালা
ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান উপদেষ্টা। এতে ই-রিকশার কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে– এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে
নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ করবে।
নতুন পে স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে কিনা– এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিনামূল্যে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের ব্যয় বহন করতে হবে না।
হত্যাকাণ্ড বাড়লেও চুরি-ডাকাতি কমেছে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বা হত্যাকাণ্ডের মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অন্যান্য অপরাধের মামলা কমেছে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎ
- জাহেদ উর রহমান