সংসদ অধিবেশন
জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৭
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ নিয়ে সংসদে বিতর্ক হয়েছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হলেও পরে বাদ দেওয়া হয়।
আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির প্রস্তাবে কণ্ঠভোটে পাস হওয়া এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন। প্রথম প্রস্তাবে ১০ সদস্যের এ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে মাহবুবুল আলম ও নূরুন্নিসা সিদ্দীকার পাশাপাশি জিএম নজরুল ইসলামের নাম বলা হয়। কণ্ঠভোটে তা পাসও হয়ে যায়।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর পেয়ে প্রশ্ন রাখেন– জিএম নজরুল ইসলামের নামটি বিরোধীদলীয় কোটা থেকে এসেছে কিনা? জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিরোধী দলের কোটা থেকে তাঁকে সদস্য করা হয়নি। প্রত্যেক সদস্য কমপক্ষে একটা কমিটিতে যাতে সদস্য থাকতে পারেন, সেই বিবেচনায় করা হয়েছে।
এ পর্যায়ে চিফ হুইপের উদ্দেশে সংসদের সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, নজরুল ইসলাম আগে একাধিক স্থায়ী কমিটিতে ছিলেন। বিরোধী দলের অনুরোধে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার এখানে রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রশ্নটা এসেছে।
তখন চিফ হুইপ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সদস্য পদ না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সব সদস্যকে কমিটিতে রাখবেন। বিরোধী দলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে– এ রকম হিসাব করেই জিএম নজরুল ইসলামকে এ কমিটিতে রাখা হয়েছে। চিফ হুইপ আরও জানান, তিনি চান সব সদস্যই অবদান রাখার সুযোগ পান। প্রতিশ্রুতি কমিটির কর্যক্রম খুব বেশি না। হয়তো বছরে একবার দুইবার বসতে পারে বা পাঁচ বছরে একবার দুইবার বসতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সদস্য পদ বাতিল না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে সদস্য রাখা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে সংসদের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যপ্রণালি বিধি (২৪৮) অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠকে বসা বাধ্যতামূলক।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এখানে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। সদস্য পদ না যাওয়া পর্যন্ত একজন সদস্যকে কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে হবে। তাই তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিনা পয়সার একটি বুদ্ধি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর নয়। দল থেকে পদত্যাগ করলে কার্যকর হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নজরুল ইসলামের সদস্য পদ শূন্য চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেন নাই; অর্থাৎ ফ্লোর ক্রসিংয়ের অভিযোগ আনা হলে সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘গ্রামে একটা কথা চালু আছে যে, কোনো দুর্বল মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে হলে তারে মেম্বার ইলেকশনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে আমাদের এ রকম কিছু টিপস দেন, আমরা উপভোগ করি। আমি সেদিন বলছিলাম, উনি থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়। সেটি হয় ইতিবাচক, না হয় নেতিবাচক। কিছু একটা হয়।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা বলব কেন? তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁকে তো বলতে পারি না, দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন।
পরে কমিটি থেকে জিএম নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
- বিষয় :
- সংসদ অধিবেশন
- জামায়াতে ইসলামী
- সংসদীয় কমিটি